চাদরের আড়ালে অভিনব চুরি

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৯, ২২:৩৫

রাজধানীতে বিভিন্ন অভিজাত মার্কেটে অভিনব কায়দায় মানি চেঞ্জারেসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তালা ভেঙে নগদ টাকা চুরির ঘটনায় জড়িত কথিত ‘চাদর বাহিনী’র ১০ জন গ্রেফতার হয়েছে। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে চোরাই কাজে ব্যবহূত শাল চাদর, ১১ লাখ ৪১ হাজার টাকা, ২টি তালাকাটা যন্ত্র, ২টি স্ক্রু ড্রাইভার, একটি ত্রিপল ও একটি ব্যাগ। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর) শুক্রবার সন্ধ্যায় কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকার আবাসিক হোটেল নিকুঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- হূদয় হোসেন বাদশা, আব্দুল্লাহ, রাসেল, সোহেল মিয়া, মাহাবুব হোসেন অরফে সুমন, জাবেদ রবি, মহরম অরফে শরিফ, শামীম , শরিফ হোসেন ও পারভেজ হোসেন ।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মশিউর রহমান বলেন, গ্রেফতারকৃতরা গত ২৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় উত্তরা এসবি প্লাজার নিচ তলার মেসার্স এ কালাম এন্ড সন্স মানি চেঞ্জারের তালা ভেঙে প্রায় ৩১ লাখ টাকা চুরি করে। এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা হয়। তিনি বলেন, মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে চুরির অভিনব কায়দা।

গ্রেফতারকৃতদের দেয়া তথ্য উল্লেখ করে এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, চুরি বিশেষ করে টার্গেটকৃত দোকানের তালা ভাঙার জন্য তারা শাল চাদর ব্যবহার করে থাকে। দু’জনে এমনভাবে চাদর ধরে রাখে যাতে মনে হয় তারা চাদরে কোন ছেঁড়া-কাটা আছে কিনা পরীক্ষা করছে। আর এ সময় চাদরের আড়ালে একজন দোকানের তালা দ্রুত কেটে ভেতরে ঢুকে যায়। এরপর দোকান থেকে নগদ টাকা ব্যাগে ভরে বের হয়। পরবর্তীতে মার্কেটের গেটে অপেক্ষমাণ মার্কেট নিরাপত্তা কর্মীদের যাতে তল্লাশির মুখে না পড়তে হয় সে জন্য তাদের সামনে একইভাবে চাদর নাড়াচাড়া শুরু করে। আর এ সুযোগে চাদরের আড়ালে টাকার ব্যাগবহনকারী দ্রুত নিরাপদে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

উপ-পুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান আরো বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে তারা গত কয়েকমাসে রাজধানীর অভিজাত মার্কেটে একই পদ্ধতিতে বেশ কয়েকটি অপকর্ম করেছে। আর শাল চাদরের কারণেই তারা কাজটি নিরাপদে করতে পেরেছে।

গ্রেফতারকৃতদের ঢাকায় কোনো স্থায়ী বাসা নেই। হোটেলেই তারা অবস্থান করে। তবে হোটেলের রেজিষ্টারে তাদের পরিচয় তারা ব্যবসায়ী। উত্তরা মানি চেঞ্জার থেকে চুরি করা ৩১ লাখ টাকার মধ্যে প্রায় ২০ লাখ টাকাই খরচ করেছে আনন্দ ফূর্তি করে। নতুন করে আরো একাধিক মানি চেঞ্জার দোকান তাদের টার্গেট ছিল। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।