নারী মানসিকভাবেও সহিংসতার শিকার —আইনমন্ত্রী

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৯, ২২:৩৭

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, নারীরা শুধু শারীরিকভাবেই নয়, তারা বিভিন্ন উপায়ে মানসিকভাবেও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। যদিও মানসিকভাবে সহিংসতার শিকারের ঘটনাগুলো আমাদের সামনে সেভাবে প্রকাশ পাচ্ছে না। এসব মানসিক সহিংসতার কারণেই পরবর্তীতে আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটছে বা সেসব নারী মানসিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। যার প্রভাব অনেক সময় পুরো পরিবারের উপরেই পড়ছে। তিনি বলেন, পরিবার কেন্দ্রিক সহিংসতার শিকার নারীরা দেশে প্রচলিত আইন সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন হলে তাদের সাথে ঘটে যাওয়া অপরাধসমূহ আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো যায়। এতে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা অনেকটাই হ্রাস পাবে। গতকাল শনিবার ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি আইনি সেবার ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে সহিংসতার শিকার নারীরা এখন ঘরে বসেই ‘১৬৪৩০’ হেল্প লাইনে ফোন করে সরকারি আইনি সেবা নিচ্ছেন। এ পর্যন্ত এক লাখ ৮৫ হাজার ২৮৬ জন নারী বিনা খরচে সরকারি আইনি সেবা নিয়েছেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, পরিবার কেন্দ্রিক নারীর প্রতি এসব শারীরিক ও মানসিক সহিংসতা প্রতিরোধে সরকার পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন’ এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ বিধিমালা প্রণয়ন করেছে। কিন্তু বাস্তবে এই আইনের প্রয়োগ খুব একটা দেখতে পাচ্ছি না। তার মানে এই আইন সম্পর্কে তারা এখনও পুরোপুরি জানেন না। তাই এই আইন সম্পর্কে নারীর পাশাপাশি পুরুষেরও জানতে হবে। এজন্য প্রয়োজন প্রচারণা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বিকাশ কুমার সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদ, আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মোঃ জহিরুল হক এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বক্তব্য দেন।