রামাদি শহর পুনর্দখল করতে ও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য স্বেচ্ছসেবকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে ইরাকি সরকার। আনবার প্রদেশের পশ্চিমে ওই জঙ্গি গোষ্ঠীটির সঙ্গে লড়াইরত সরকারি বাহিনীগুলোতে যোদ্ধা স্বল্পতার কারণে স্বেচ্ছাসেবক সংগ্রহ করার উদ্যোগ প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে বলে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছে ইরাকি মন্ত্রীসভা।
আইএস জঙ্গিদের হাতে গত রবিবার আনবারের প্রধান শহর রামাদির পতন হয়। তারপর থেকে বাসিন্দারা শহরটি ছেড়ে পালাতে শুরু করেছে। গত কয়েকদিনে শহরটির ২৫ হাজার বাসিন্দা পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রামাদিতে প্রতিরক্ষা অবস্থান সংহত করছে আইএস জঙ্গিরা।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার মন্ত্রীসভার এক বৈঠকের পর ইরাকি প্রধানমন্ত্রী হায়দার আবাদি বলেছেন, 'রামাদিতে আইএসের হামলার মুখে সরকারি বাহিনীর যেসব সেনা পালিয়ে গেছেন তাদের বিচার করা হবে। আইএসের হুমকি মোকাবিলায় ইরাকি জনগণকে ‘রুখে দাঁড়াতে’ হবে মন্তব্য করে সেনবাহিনীতে ভর্তির জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের আহ্বান জানিয়েছেন আবাদি। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর যোদ্ধাদের অস্ত্র সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে’ ইরাককে সহায়তা করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছেও আবেদন জানিয়েছে ইরাকি মন্ত্রীসভা।
রাজধানী বাগদাদ থেকে মাত্র ১১০ কিলোমিটার দূরের শহর রামাদির পতন ইরাকি সরকার ও আইএস মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের নেয়া কৌশল, উভয়ের জন্য একটি বিপর্যয়। রামাদি পুনর্দখল করা ইরাকি সরকারের জন্য বড় ধরনের একটি চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জে জয়ী হওয়ার জন্য সুন্নি অধ্যুষিত প্রদেশটিতে শিয়া বেসমরিক যোদ্ধা পাঠানোর ঝুঁকি নিয়েছে সরকার। রামাদির ২০ কিলোমিটার পূর্বে হাব্বানিয়া সামরিক ঘাঁটিতে ইতিমধ্যেই তিন হাজার শিয়া বেসামরিক যোদ্ধা ‘তৈরি হচ্ছে’ বলে জানা গেছে। রামাদি পুনর্দখলের জন্য যে কোনো মূহুর্তে লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল জানিয়েছে, ইরাকের স্থানীয় স্থল বাহিনীকে কিভাবে সর্বোচ্চ সমর্থন যোগানো যায় তা পর্যালোচনা করে দেখছেন তারা।
