ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউনগুলোর বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গতকাল শনিবার সকালে অভিযান শুরু হয়। জয়নাগ রোডের একটি আবাসিক ভবনে কেমিক্যালের গুদাম খুঁজে পায় টাস্কফোর্স। এরপর ভবনটির বিদ্যুত্ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সময় এলাকার ব্যবসায়ীরা স্লোগান দিতে থাকে এবং তাদের তোপের মুখে অভিযান স্থগিত করতে বাধ্য হয় টাস্কফোর্স।
পরে দুপুর আড়াইটার দিকে মেয়র সাঈদ খোকন নিজেই সেখানে হাজির হয়ে ব্যবসায়ীদের শান্ত করেন। নতুন করে শুরু হয় অভিযান। উপস্থিত সাংবাদিকদের মেয়র বলেন, একজন বিএনপি নেতার বিভ্রান্তিকর তথ্যে অভিযানে বাধা আসে। পরে ব্যবসায়ীরা বিষয়টি বুঝতে পারেন। গতকাল ৮টি কারখানার বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
যে ৮টি কারখানার বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে সেগুলো পুরান ঢাকার শহীদ নগর ও বউবাজারের আবাসিক এলাকার। সরেজমিনে দেখা গেছে, ছোট ছোট ও বহুতল ভবনের নিচতলায় জুতা ও পানির বড় বোতল তৈরির কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। এসব কারখানায় বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ঝুঁকিপূর্ণভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে।
শহীদ নগরের ২৫২ নম্বর বাড়িতে আবাসিকের কথা বলে বিদ্যুত্ সংযোগ নিয়ে পানির বড় বোতল তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছেন আমিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। কারখানার ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, পানির বড় বোতল তৈরির জন্য প্লাস্টিকের গুঁড়া, প্লাস্টিক ও বোতল ছড়িয়ে আছে। কারখানার ম্যানেজার ওয়াসি আহম্মেদ বলেন, ‘আমাদের কারখানার অনুমোদন রয়েছে। এখানে প্লাস্টিকের পানির বড় বোতল তৈরি করা হয়। তবে তিনি অনুমোদনের কোনও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এরপর ওই কারখানার বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন করা হয়।শহীদ নগরের ২৯০/২ নম্বর বাসায় প্লাস্টিক গলিয়ে জুতার সোল তৈরি করা হয়। এই কারখানায় স্পিরিটের মজুত পেয়েছে সিটি করপোরেশনের টিম। বিস্ফোরক অধিদফতরের কর্মকর্তারা এরপর এই কারখানার বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেন। তবে ওই কারখানার মালিককে পাওয়া যায়নি।
২৯ আরএনডি রোডের একটি জুতার কারখানা তালাবদ্ধ অবস্থায় পেয়েছে অভিযানে থাকা টিমটি। এরপর সেটিরও বিদ্যুত্ সংযোগ বন্ধ করা হয়। শহীদ নগরের ৪ নম্বর সড়কের একটি বহুতল ভবনের নিচে প্লাস্টিকের রশি তৈরি করা হয়। পুরো কারখানায় প্লাস্টিকের দাহ্য প্রদার্থ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখতে দেখে মোবাইল কোর্ট।
অভিযানের বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুবর্না শিরিন বলেন, ‘আমরা শহীদ নগর ও বউ বাজার এলাকায় ঘুরে আটটি কারখানার ইউটিলিটি সার্ভিস বিচ্ছিন্ন করেছি। এসব কারখানায় অতি দাহ্য পদার্থ পেয়েছি। তাই এসব কারখানায় বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।’ তিনি জানান, এর আগেও এসব কারখানার মালিকদের নোটিস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেনি। আজকে আমরা তাদের বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছি। কারখানা সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারখানা না সরালে পরবর্তীতে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেয়র সাঈদ খোকন মহানগর বিএনপির যে নেতার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করেছেন, তার নাম আবু মোতালেব। তিনি ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির সহ-সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ প্লাস্টিক প্যাকেজিং রোল প্রস্তুতকারক মালিক ও বণিক সমিতির সভাপতি। অভিযোগের ব্যাপারে আবু মোতালেব বলেন, ‘আমি সেখানে রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে যাইনি, আমি গিয়েছি এফবিসিসিআইয়ের প্রতিনিধি হিসেবে।
