গণফোরামের দু’জন শপথ নিচ্ছেন

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৯, ২২:৫৮

দল-জোটের ‘বারণ’ উপেক্ষা করে একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন গণফোরাম নেতা সুলতান  মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খান। এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত জানিয়ে তারা দু্’জনই পৃথকভাবে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তারা দু’জনই ঐতিহাসিক ৭ মার্চ শপথ নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তবে ৭ মার্চ না অন্য কোনোদিন তাদের শপথ পাঠ করানো হবে সেই তারিখ নির্ধারণ করবেন স্পিকার।স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমি আমার নির্বাচনী এলাকা রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে শুক্রবার রাতে ঢাকায় ফিরেছি। আজ (শনিবার) দুপুর ১২টা পর্যন্ত অফিসে ছিলাম, সেই পর্যন্ত এরকম কোনো চিঠি আমার হাতে আসেনি। তারা চিঠি দিয়ে থাকলে হয়তো আগামীকাল (আজ রবিবার) তা পেতে পারি। চিঠি দেখার পর আমি সিদ্ধান্ত নেব।’

সুলতান মনসুর মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরামের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ‘ধানের শীষ’ মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন তিনি। সুলতান মনসুর নির্বাচনের আগ পর্যন্ত মূলত ব্যক্তিগতভাবে ড. কামালের পুরনো জোট জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় সদস্য ছিলেন। আর গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির ভোটে লড়েছেন দলীয় প্রতীক ‘উদীয়মান সূর্য’ মার্কায়। মোকাব্বির সিলেট-২ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন না, তিনি শুধু গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। ওই আসনে উচ্চ আদালতে বিএনপি দলীয় ঐক্যফ্রন্টের মূল প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় শেষে গিয়ে ঐক্যফ্রন্ট মোকাব্বিরকে সমর্থন দেয়।

সুলতান মনসুর গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘৭ মার্চ শপথ নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে আমি লোক মারফত স্পিকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি গণফোরামের কেউ নই, আমি গণফোরামকে প্রতিনিধিত্বও করি না। আমি জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ছিলাম। কাজেই আমি শপথ নিলে গণফোরামের কে কি বললেন সেটি ভাবার দরকার আমার নেই। আমার এলাকার লোকজন ভোট দিয়ে আমাকে এমপি নির্বাচিত করেছেন, তারা চান আমি যেন সংসদে যাই। ভোটার ও এলাকার জনগণের মতামত অনুযায়ীই আমি সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, এমপি হিসেবে শপথ নিতে তারা দুজন স্পিকারকে যে চিঠি দিয়েছেন, সে ব্যাপারে দল কিছুই জানে না। আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল- শপথ না নেওয়ার। এখন তারা যদি শপথ নেন তাহলে দল তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেবে। গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, গণফোরাম ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে তারা দুজন শপথ নিলে সেইক্ষেত্রে দল থেকে তাদেরকে বহিষ্কার করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হবে।