মো. হাবিব উল্লাহ (২৫) চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদের সুখছড়ী হাছির পাড়ার মাওলানা শফিক আহমদের ছেলে। ছয় ভাইয়ের মধ্যে হাবিব পঞ্চম।
তিনি গত ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর কক্সবাজারে বেড়াতে যান। ওইদিন সন্ধ্যায় মানব পাচারকারী দলের দু’জন সদস্য মালয়েশিয়ায় কম খরচে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাবিবকে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে মানব পাচারকারীরা মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে জানায়, হাবিব সমুদ্রে ফিশিং বোটে হেফাজতে আছে। তাকে পেতে হলে ইসলামী ব্যাংক কক্সবাজার শাখার সঞ্চয়ী হিসাব নং- ৫৮৫৮৭ এ দু লাখ টাকা জমা দিতে হবে।
হাবিব উল্লাহর ছোট ভাই মো: রোকন উদ্দীন মানব পাচারকারীদের কথা মতো ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা জমা দেয়।
মানব পাচারকারীরা আরো ৫০ হাজার টাকা জমা দেয়ার জন্য বলে। টাকা জমা দিলে ২ দিনের মধ্যে হাবিবকে ফেরত দেয়া হবে বলে আশ্বাস দেয়।
হাবিব উল্লাহর ভাই মো: রোকন উদ্দীন ২০ হাজার টাকা দেয়। এতেও মানব পাচারকারীরা সন্তুষ্ট না হয়ে আরো ১ লক্ষ টাকা দাবি করে।
হাবিব উল্লাহর স্বজনরা এক টাকা জমা দিতে না পারায় হাবিব উল্লাহকে ফেরত পাননি।
এ ব্যাপারে হাবিবের ভাই মো. রোকন উদ্দীন বাদী হয়ে কক্সবাজার মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে গত ৩ ফেব্রুয়ারি মামলা করেন। আসামি করা হয় কক্সবাজার পৌরসভার দক্ষিণ পাহাড়তলী এলাকার মাসুদুর রহমানের স্ত্রী মিনুয়ারা বেগম (২৮) ও তার স্বামী মাসুদুর রহমানকে।
হাবিবের স্বজনরা জানায় হাবিব উল্লাহকে মানব পাচারকারীরা থাইল্যান্ডের একটি ক্যাম্পে বন্দি করে রাখে। তাকে নির্যাতন করত, খাবার দিত না। এতে হাবিব উল্লাহ অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থতার কথা মোবাইল ফোনে পিতা-মাতাকে পাচারকারীরা জানাত।
গত ২ ফ্রেবুয়ারি হাবিব উল্লাহ থাইল্যান্ডে মারা যায় বলে তার স্বজনরা জানান।
