রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে টুঙ্গিপাড়া হাসপাতালে হামলা-ভাংচুর, পুলিশসহ আহত ২৫

আপডেট : ২২ মে ২০১৫, ২০:৫৭
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে তাণ্ডব চালিয়েছে ক্ষুব্ধ জনতা ও স্থানীয় মাদ্রাসা ছাত্ররা। এতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, দুই চিকিৎসক, দুই নার্স , পাঁচ কর্মচারী, সাত পুলিশ সদস্যসহ ২৫ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার বাদ জুম্মা এ ঘটনা ঘটে।  
 
আহতদের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা চিকিৎসক পবিত্র কুমার কুন্ডু, স্টাফ নার্স কাকতী রানী বল ও পুলিশ কনস্টেবল শেখরকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় ভর্তি করানো হয়েছে। 
 
হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, গত ১৯ মে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার মিত্রডাঙ্গা গ্রামের ননী গোপাল বালার মেয়ে মনা ভারতী  অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। উল্লেখ্য, অতিসম্প্রতি তিনি হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়ে খাদিজাতুল কোবরা নাম ধারণ করেন। 
 
শুক্রবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে মনা ভারতী (খাদিজাতুল কোবরা) বেশি অসুস্থ বোধ করলে হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্স কাকতী রানী বল তার শরীরে ইনজেকশন পুশ করেন। এর পরপরই মনা ভারতী মারা যান। 
 
একজন মুসলমান রোগীকে হাসপাতালের হিন্দু নার্স ইনজেশন পুশ করে মেরে ফেলেছে -এমন গুজবে এলাকার অসংখ্য ক্ষুব্ধ জনতা ও স্থানীয় মাদ্রাসার ছাত্ররা সংঘবদ্ধ হয়ে হাসপাতালে হামলা ও ভাংচুর চালায়।
 
এ সময় তারা  চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের বেধড়ক  মারপিট, অফিস, চিকিৎসক-নার্স  ও কর্মচারীদের বাসভবন ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ করে তাণ্ডব সৃষ্টি করে। হামলাকারীরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা চিকিৎসক পবিত্র কুমার কুন্ডু ও নার্স কাকতী রানী বলকে গুরুতর জখম করে।
 
ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে হামলাকারীদের সংঘর্ষ বাধে। এতে পুলিশ কনস্টেবল শেখরসহ সাত পুলিশ কনস্টেবল এবং অপর ১০ জন আহত হন। 
 
পরে পুলিশ টিয়ারসেল ও রবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 
 
জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান ও পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শে জাহিদ হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সফিউল্লাহ , টুঙ্গিপাড়ার পৌর মেয়র ইলিয়াস হোসেন সরদার প্রমুখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।