নগরীতে আওয়ামী লীগের বিজয় শোভাযাত্রায়

আপডেট : ২২ মে ২০১৫, ২২:১৬

 

 
রাজধানীতে আওয়ামী লীগের বর্ণাঢ্য বিজয় শোভাযাত্রায় লাখো মানুষের ঢল নামে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ৩৪তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি পালনের অংশ হিসেবে  শুক্রবার বিকালে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে বিজয় শোভাযাত্রা বের করে আওয়ামী লীগ।
 
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সামনে থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু ভবনস্থ এই দীর্ঘ সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক জুড়েই মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলটির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় নেমেছিল জনতার ঢল। সুবিশাল এই শোভাযাত্রায় কণ্ঠে ছিল একই দাবি ‘পেট্রোল বোমাবাজ, জামায়াত-শিবির ও জঙ্গিগোষ্ঠীর’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন করা দেশের মাটি স্থান  নেই।
 
শোভাযাত্রাকে কেন্দ্রে করে ঢাকা মহানগরীর ১৫টি নির্বাচনী এলাকা, ৪১টি থানা এবং শতাধিক ওয়ার্ড থেকে অজস্র মিছিলের স্রোত এসে মিশেছিল ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সামনে।
 
পুরো রাজধানীই পরিণত হয়েছিল মিছিলের নগরীতে। সীমান্ত বিজয়, লন্ডনের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক এবং তিন সিটি করপোরশেন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থীত প্রার্থী বিজয়ী হওয়ায় আনন্দে উচ্ছ্বাসিত-উদ্ভাসিত লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শোভাযাত্রায় উত্সবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
 
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে মিছিলের অগ্রভাগ সাড়ে তিন কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে যখন ৩২ নম্বর ধানমন্ডিতে গিয়ে শেষ হয়, তখন পশ্চাত্ভাগ মত্স্যভবন মোড় ছাড়াতেই পারেনি।
 
বর্ণাঢ্য এ বিজয় শোভাযাত্রায় রং-বেরঙের বেলুন, ঘোড়ার গাড়ি, ব্যানার, ফেস্টুন, ট্রাক, দলীয় ও জাতীয় পতাকা, বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও সজিব ওয়াজেদ জয়ের বিশাল বিশাল ছবিসহ বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে ব্যান্ডের তালে তালে হাজার হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ছাড়াও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে নগরীর আপামর জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
শোভাযাত্রা পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানেই গণতন্ত্র, শেখ হাসিনা মানেই বাংলাদেশের অর্জন। তিনি বলেন, আজ ইন্দ্রিরা-মুজিব চুক্তি হয়েছে। যা জাতির পিতার (বঙ্গবন্ধু) হাতে রচিত, কন্যার শেখ হাসিনার হাতে সম্পাদিত। এটা বিরল অর্জন। বাঙ্গালী জাতির জন্য গৌরবের। তিনি বলেন, মুজিব-ইন্দিরা চুক্তিকে বিএনপি গোলামী চুক্তি বলে আখ্যায়িত করেছিল। অথচ ভারতের লোকসভায় চুক্তিটি পাস হওয়ায় খালেদা জিয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের মানুষকে অভিনন্দন জানায়নি। যদিও এসে কিছু যায় আসে না।
 
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধরী মায়া জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফুন্নেছা মোশারফ, যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল প্রমুখ।