নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলার দুটি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। দুই বিচারপতির স্বাক্ষরের পর গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে এ রায়গুলো প্রকাশ করা হয়। রায় দুটি যথাক্রমে ৭৮১ ও ৭৮৩ পৃষ্ঠার। রায়ে বলা হয়েছে, নূর হোসেনের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের বিবাদের জেরেই সাত খুনের ঘটনা ঘটে। এই খুনের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে র্যাব কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন, এমএম রানা ও নূর হোসেন জড়িত। এটা রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পেরেছে। অপর আসামিরা খুনের ঘটনা সংঘটনে জড়িত। রায়ে বলা হয়, মানবতাবিরোধী ও মারাত্মক ধরনের এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কঠিন বার্তা দেওয়া প্রয়োজন যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ সংঘটনে উত্সাহিত না হন। কেউ যেন নিজেদেরকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে না করেন। এজন্য অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।
রায়ে আরো বলা হয়, দণ্ডিতরা যে ধরনের অপরাধ করেছেন তারপরও যদি তাদের উপযুক্ত সাজা না দেওয়া হয় তাহলে বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থাহীনতা তৈরি হবে। দেশের জনগণের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় র্যাবের প্রতি মানুষের যথেষ্ট আস্থা রয়েছে। কিন্তু কতিপয় সদস্যের কারণে সামগ্রিকভাবে গোটা বাহিনীকে দায়ী করা যায় না। কিছু উচ্ছৃঙ্খল র্যাব সদস্যের কারণে এ বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল অর্জন ম্লান হয়ে যেতে পারে না। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ পূর্ণাঙ্গ রায়টি লিখেছেন। ওই রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করে বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক মোস্তফা জামান ইসলাম নিজস্ব অভিমত দিয়েছেন।
গত বছরের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট সাত খুন মামলার রায় ঘোষণা করে। ওই রায়ে মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত লে.কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ, কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ পনেরো জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। যাবজ্জীবন দণ্ড দেওয়া হয় ১১ জনকে। নিম্ন আদালতের দেওয়া ২৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ও নথি পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট এ রায় দেয়।
২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ এ মামলায় ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। দণ্ডিতদের ২৫ জনই সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনী থেকে প্রেষণে র্যাব-১১ তে কর্মরত ছিলেন। মামলার পর তাদের নিজ নিজ বাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া থেকে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। তারপর তাদের ঠান্ডা মাথায় হত্যা করে লাশগুলো গুম করা হয়। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের ছয়জনের এবং পরদিন আরেকজনের লাশ পাওয়া যায়। এ হত্যার ঘটনায় দুটি মামলা করে নিহতের স্বজনরা।
