বগুড়ায় করতোয়া নদীর ৩০ দখলদারের তালিকা জেলা প্রশাসন ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। অভিযোগ ওঠেছে এতে সব দখলদারদের নাম আসেনি। তালিকায় পুরনোদের নাম না থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে নোটিস বোর্ড কিংবা শহরের জনবহুল স্থানে নদী দখলদারের তালিকা না টানিয়ে ওয়েবসাইটে আংশিক তালিকা প্রকাশ করাকে সন্দেহের চোখে দেখছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। তাদের বক্তব্য এটি জেলা প্রশাসনের দায় এড়ানোর কৌশলমাত্র।
জেলা প্রশাসনের সরকারি ওয়েবসাইটে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা তালিকায় ৩০ দখলদারের মধ্যে রয়েছে—বেসরকারি সংস্থা ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস), বগুড়া পৌরসভা শহরের মালতিনগর এলাকার মোহাম্মদ বাদশা, একই এলাকার মোছা. হাজেরা বেওয়া, বাহালুল ইসলাম, আবদুস সাত্তার, লাল মিয়া, বুলু মিয়া, জাকির হোসেন, খলিলুর রহমান, মাটিডালি এলাকার আরিফ হোসেন, নাটাইপাড়ার সাইদুল ইসলাম, জামাল উদ্দিন, মশিউর রহমান, লুত্ফর রহমান, আরিফা বেগম, আবুল কাশেম, বজলুর রশিদ, বজলার রহমান, মো. মিল্টন, গৌর দাস, অনিল কর্মকার, গোপাল চন্দ্র দাস, রাধা চন্দ্র দাস, প্রহ্লাদ, বগুড়া ডায়াবেটিকস হাসপাতাল, গোপীনাথ মন্দির এবং সাহেব বাজার বায়তুল হামদ জামে মসজিদ।
বাপার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, করতোয়া নদীর শুধু বগুড়া শহরের অংশেই অবৈধ দখলদার কয়েকশ’। দীর্ঘদিন ধরেই সিএস নকশা অনুযায়ী নদীর সীমানা নির্ধারণ এবং অবৈধ দখলদারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের জন্য তারা আন্দোলন করছেন। অথচ আদালত এবং নদী কমিশনের নির্দেশ সত্ত্বেও জেলা প্রশাসন আগে থেকে তাদের কাছে থাকা একটি দায়সারা তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। এই অসম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে প্রশাসন শুধু দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে। বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ বলেন, নদী কমিশন থেকে দখলদারের তালিকা প্রকাশ করতে বলা হয়েছে, সেটা যেকোনোভাবে করলেই হলো। জনবহুল স্থানে কিংবা নোটিস বোর্ডে তালিকা টানাতে হবে, এমনটা নদী কমিশনের নির্দেশনায় উল্লেখ নেই।
বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আলীমূন রাজীব বলেন, দখলদারদের সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়ে নিজ থেকে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসন থেকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। এরপর উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। এ ছাড়া আরও দখলদার চিহ্নিত করে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে।
