লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এম ডি মতিউর রহমান। আগামী ১১ জুন টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিলে মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেট মূলত বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা। বাংলাদেশিদের প্রাণকেন্দ্র এখান থেকেই আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লুতফর রহমান গত দু’বার মেয়র নির্বাচিত হন। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে ভোট জালিয়াতি ও নির্বাচনে ধর্মের অপব্যবহারের অভিযোগে গত ২৩ এপ্রিল ব্রিটেনের আদালত তাকে বরখাস্ত করে এবং নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। এর প্রেক্ষিতে টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিলে পুনরায় মেয়র নির্বাচন হচ্ছে।
এদিকে, টাওয়ার হ্যামলেটসে আরেক বাংলাদেশিকে প্রার্থী হিসেবে পেয়ে উচ্ছ্বাসিত স্থানীয়রা। বাঙালি কমিউনিটির সদস্যরা তাকে বিজয়ী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। একমাত্র বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী হিসেবে মতিউরের বিজয়ের প্রবল সম্ভবনা রয়েছে বলে মনে করছেন প্রবাসীরা।
স্থানীয় কমিউনিটি নেতা আওলাদ আলী রেজা বলেন, মেয়র লুতফর রহমানকে বরখাস্তের পর মতিউর রহমান নানু প্রার্থী হওয়ায় আমরা খুশী। সমাজকর্মী হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে তার যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছেন। আমরা আশা করছি নানু মেয়র নির্বাচিত হলে প্রশাসনিক দক্ষতারও পরিচয় দেবেন। তার দ্বারা বাঙালি কমিউনিটির সদস্যরা উপকৃত হবেন। মতিউর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লেবার পার্টির প্রার্থী জন বিগসের বিরুদ্ধে লড়বেন।
এদিকে মতিউর মেয়র নির্বাচিত হলে ৫ হাজার সোশ্যাল হাউজ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, পূর্ব লন্ডনে স্বল্প আয়ের মানুষের ‘হাউজিং’ হলো মূল সমস্যা। মেয়র নির্বাচিত হলে এই সমস্যার সমাধানে আমি ৫ হাজার বাড়ি নির্মাণ করব। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। যেসব বাড়ি বা অফিসে লিফটের সমস্যা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সংস্কার করব। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য লাঞ্চ মানির ব্যবস্থা করবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন।
সুনামগঞ্জের ছাতকের সুহিতপুর গ্রামের মৃত হাজী মাওলানা জাইফর আলীর কনিষ্ঠ পুত্র নানু সাহেব। শৈশবে তিনি বাবার হাত ধরে পাড়ি জমান ব্রিটেনে। বাবার সাথে পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসে্ আবাস গড়েন। সেখানেই বেড়া উঠা। লেখাপড়া করেছেন টাওয়ার হ্যামলেট কলেজ, লন্ডন এসএস ইন্টারন্যাশনাল কলেজ ও লন্ডন ভিপিপি বিশ্ববিদ্যালয়ে। আইনের ওপর নিয়েছেন উচ্চতর ডিগ্রি।
নানু সাহেবের টাওয়ার হ্যামলেটে রয়েছে পারিবারিক ব্যবসা। তার পরিবার সেখানে চক্ষু হাসপাতাল পরিচালনা করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে নানু এক কন্যা সন্তানের পিতা।
