কয়েকজন তরুণ ছুটাছুটি করে যানবাহন ও পথচারীদের থামিয়ে আর্থিক সহযোগিতা চাইছেন। রাস্তার উপরে একটি প্লাস্টিকের গামলায় কিছু টাকা ও কয়েন রয়েছে। পাশের একটি গাছের সঙ্গে বাঁধা রয়েছে সালোয়ার-কামিজ পরা এক নারী। চোখে-মুখে তার আতঙ্কের ছাপ। এদিক-ওদিক ফ্যালফেলিয়ে চাইছেন তিনি। মুখে খাবার দিতে গেলেই বিষ বিষ বলে আর্তনাদ করছেন। এসবের জন্য মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামুন্দি নিশিপুরে ব্যস্ততম সড়কের পাশে উৎসুক জনতার ভিড়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিন যাবৎ তাকে এভাবেই বেঁধে রেখে চিকিত্সার জন্য টাকা তোলা হচ্ছে। স্বামীর বাড়িতে খাবার খেয়ে হঠাৎ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন ববিতা খাতুন (৩২) নামের ওই নারী। এমন অভিযোগ তুলে তার খালা রিজিয়া বেগম জানান, তাকে পাগল বানিয়ে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। সহায়-সম্বল ও পিতা-মাতাহীন ববিতার চিকিৎসার জন্য মানুষের কাছ থেকে সাহায্য গ্রহণ করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই তার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মধ্য দিয়ে গাংনী উপজেলার বামুন্দি মোল্লাপাড়ার ব্যবসায়ী মিনা মিয়ার সঙ্গে ববিতার বিয়ে হয়। বিয়ের পর বামুন্দি এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন মিনা ও ববিতা। কিছুদিন আগে ববিতাকে নিয়ে যাওয়া হয় মিনার নিজ বাড়িতে। মিনার প্রথম স্ত্রী ও বাড়ির লোকজন ববিতাকে মেনে নিতে অস্বীকার করেন। এনিয়ে কয়েকদিন ঝগড়া বিবাদ চলছিল। এরমধ্যে ববিতা হঠাত্ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেললে তার খালার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তারপর থেকেই তার কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি মিনা মিয়া।
ববিতার খালা রিজিয়া খাতুন আরো জানান, পিতৃ-মাতৃহীন ববিতা তার কাছেই মানুষ। তাই ববিতাকে তিনি তাড়িয়ে দিতে পারছেন না। মিনা ও তার প্রথম স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ববিতাকে কৌশলে মিনার বাড়ি নিয়ে পাগল বানানো হয়েছে। এখন তার উন্নত চিকিত্সা প্রয়োজন।
স্থানীয় নিশিপুর যুব উন্নয়ন ক্লাবের কয়েকজন সদস্য প্রতিদিনই টাকা উত্তোলন করছেন। ক্লাবের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান লাল্টু, আসিফ, তরিকুল, ইসলাম, শান্ত আহম্মেদ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টাকা উত্তোলন কাজে দায়িত্ব পালন করছেন। মোস্তাফিজুর রহমান লাল্টু জানান, প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকা করে আদায় হচ্ছে। গত কয়েকদিন যা আদায় হয়েছে তা চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট নয়। তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।
