গতকাল সোমবার ও আগেরদিন রবিবার গাজীপুর ও রংপুরে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ১৩ জন নিহত এবং ২৫ জন গুরুতর আহত হয়েছে। গাজীপুরে নিহত হয়েছে পুলিশের এক সদস্য ও ৬ জন গ্রেফতারকৃত আসামি। রংপুরে নিহতরা সবাই সাধারণ যাত্রী।
গাজীপুর প্রতিনিধি ঃ গাজীপুরে পুলিশ ও আসামি বহনকারী লেগুনা ও কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক পুলিশ কনস্টেবলসহ ৭ জন নিহত এবং ১৩ জন গুরুতর আহত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর মহানগরীর পোড়াবাড়ী মাজারের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। আহতদের মধ্যে পুলিশ সহ ৯ জনকে গাজীপুর সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতরা হলেনঃ পুলিশ কনস্টেবল মোস্তফা কামাল (৪০), আসামি মাসুদ (২২), মানিক (৩০), সোহেল (২৮), মমিন (৩২), সুরুজ মিয়া (৫৫) ও মোতালেব (৪০)।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেনঃ শ্রীপুর মডেল থানা এএসআই নূর আরশাদ (৪২), কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন (৪০), জুলহাস (৫০), মান্নান খান (৫২) ও মোশারফ হোসেন (৪০)। আহত আসামিরা হলেনঃ শ্রীপুরের বর্মী এলাকার আলম মিয়ার ছেলে শরিফ মিয়া (১৮), একই উপজেলার মাইজপাড়া এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে তামিল হাসান (২১), রাজেন্দ্রপুর এলাকার আলাউদ্দিনের ছেলে সাইফুল (২০), আলাউদ্দিনের ছেলে মনির হোসেন (২২), মোতালেব (৪২), নিজ মাওনা গ্রামের আফাজউদ্দিনের ছেলে তোফাজ্জল (৩৫), সাতখামাইর এলাকার রহিম উদ্দিনের ছেলে মোবারক (৫০) ও একই এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে কামাল (৪০)।
শ্রীপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, বিভিন্ন মামলার ১৩ জন আসামি নিয়ে ৬ জন পুলিশ সদস্য একটি হিউম্যান হলারে (লেগুনা) করে বেলা আড়াইটার দিকে গাজীপুর কোর্টের উদ্দেশে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনায় আহত যাত্রী ও পুলিশ জানায়, লেগুনাটি বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে গাজীপুর মহানগরীর পোড়াবাড়ী মাজার এলাকায় পৌঁছলে বিপরীতমুখী কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ৬ আসামি নিহত এবং পুলিশসহ ১৪ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কনস্টেবল মোস্তফা কামালকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। গুরুতর আহত পুলিশের ৪ সদস্য এবং আসামি সাইফুল, মনির হোসেন, জুলহাস, আরশাদকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে দু এক জনের অবস্থা শংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন হতাহতদের উদ্ধার করে গাজীপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়। কাভার্ড ভ্যানটি ময়মনসিংহের দিকে পালিয়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ নূরুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ গাজীপুর সদর হাসপাতালে যান।
ওসি ক্লোজ, তদন্ত
কমিটি গঠন
সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশসহ ৭ জন নিহতের ঘটনায় কর্তব্যকাজে অবহেলার জন্য শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেবকে গাজীপুর পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ পিপিএম (বার) জানান, ঘটনাটি তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ দেলোয়ার হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রংপুর প্রতিনিধি ঃ রংপুরের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছে। আহতদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় রংপুর মহানগরীর হাজিরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
রংপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া দিনাজপুরগামী ‘সুমিতা পরিবহন’ যাত্রীবাহী বাস রবিবার সন্ধ্যায় রংপুর মহানগরীর হাজিরহাট এলাকায় পেট্রোল পাম্পের কাছে বিপরীত দিক থেকে আসা পর পর ২টি যাত্রীবাহী ‘মাহিন্দ্র’কে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৩ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় রাতে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পাড়াগ্রাম এলাকার মৃত. আব্দুল গফুরের স্ত্রী জহুরা বেগম (৬০), কন্যা অলতানুর বেগম (৩০), নাতি ১০ম শ্রেণির ছাত্র রাকিব (১৩), গঙ্গাচড়া উপজেলার মন্থনা এলাকার শুকুমুদ্দিনের পুত্র সাজ্জাদুল (২৭), রংপুর মহানগরীর খলিফাটারী এলাকার রওশনারা মুক্তা (২৮) ও উত্তম হাজিরহাট এলাকার মোন্নাফ আলী (৪০)। কোতোয়ালী পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মাহিন্দ্র ২টি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ১ ঘন্টা রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।