বিলকুড়ালিয়ার খাস জমিতে ভূমিহীনদের ধান কাটা উত্সব

আপডেট : ২৬ মে ২০১৫, ০৩:৩০
চাটমোহর উপজেলার বহুল আলোচিত বিলকুড়ালিয়ার খাস জমিতে প্রায় দেড় হাজার ভূমিহীন নারী-পুরুষের সোমবার সকালে প্রথমবারের মতো বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ২২ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের পর এবারই ভূমিহীনরা খাস জমির স্থায়ী বন্দোবস্ত পেয়েছেন। বন্দোবস্ত পাওয়া প্রায় ৩শ’ একর খাস জমিতে ভূমিহীনরা এবার বোরো আবাদ করেছিল। ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতি বছরই ভূমিহীনদের বোরো ধান সোনালী আকার ধারণ করলেই বিলে পাহারা বসাতে হতো। কখন যেন জোতদার-কবুলিয়াতি গং ধান লুট করে নিয়ে যায়। এবার তাই ছিল উত্সবটা অন্য ধাঁচের। এবার জোতদারদের কোন হুমকি-ধামকি ও চোখ রাঙানি নেই।
 
ভূমিহীন উন্নয়ন সংস্থার (এলডিও) সহযোগিতায় ভূমিহীনদের ধান কর্তনের উত্সব সোমবার সকালে বিলের ১নং সিটে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ভূমিহীনদের অভিভাবক, নেতা মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষক কে,এম, আতাউর রহমান রানা।
 
উত্সবে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মিজানুর রহমান। বিলের মাঝে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন থানার ওসি (তদন্ত) জিএম মিজানুর রহমান, সাংবাদিক হেলালুর রহমান জুয়েল, ভূমিহীন সংগঠক ইসরাইল আলম, ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবুল কাশেম, ভূমিহীন নেতা আনোয়ার হোসেন, হাসান আলী, বাহের আলী, আবু হানিফ, ভূমিহীন নেত্রী সানোয়ারা খাতুন, চাম্পা খাতুন প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এলডিও’র প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর নূরে আলম সিদ্দিকী মন্জু।
 
২০১৩-১৪ অর্থ বছরে বিলকুড়ালিয়া মৌজার প্রায় ২৮৫ একর খাস জমির ১ হাজার ৩১৩টি ভূমিহীন পরিবারের নামে স্থায়ী বন্দোবস্ত দেয়ার জন্য চাটমোহর উপজেলা কৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত কমিটি নথিগুলো চূড়ান্ত অনুমোদনের সুপারিশ করে পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরণ করেন। ইতোমধ্যে পাবনা জেলা কৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত কমিটির সভায় অনুমোদিত হয়ে জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরে চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত ৫৪৭টি পরিবারের কবুলিয়াতি দলিল সম্পাদন ও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে।
 
প্রকৃতি অনুকূলে থাকায় বিলকুড়ালিয়া মৌজার ৩৭১ একর খাস জমিতে ৩২টি শ্যালো মেশিন, ২টি গভীর নলকূপ ও ১টি মিনি ডিপ টিউবওয়েলে সেচ ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ৬শ’টি ভূমিহীন পরিবারের চাষাবাদকৃত জমিতে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।
 
ভূমিহীন নেতা আনোয়ার হোসেন জানান, বিলকুড়ালিয়ার খাস জমি হতে এবার ভূমিহীন পরিবারগুলো প্রায় ৩০ হাজার মণ ধান ঘরে তুলবে।
 
ভূমিহীন নেত্রী সানোয়ারা জানান, বন্দোবস্তপ্রাপ্ত ৩০ শতক জমির ধানে আমার পরিবারে সারা বছরের খাবার সংস্থান হবে।
 
ভূমিহীন নেত্রী ও এলডিও’র সহ-সভানেত্রী চাম্পা বেগম জানান, এ বছরে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ বন্দোবস্ত প্রাপ্ত জমিতে ধান কাটতে পারছি।
 

এলডিও’র নির্বাহী পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান রানা মাস্টার জানান, বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন ও এএলআরডি’র সহযোগিতায় কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও আইনি সহায়তাপ্রাপ্ত ভূমিহীনদের সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটছে। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বাকী ভূমিহীন পরিবারের দরখাস্তগুলো দ্রুত চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অনুরোধ জানান।