আগামীকাল ফিফা সভাপতি নির্বাচন

আপডেট : ২৮ মে ২০১৫, ০৩:০৯

দুর্নীতির অভিযোগে দুই সহ-সভাপতিসহ সাত কর্মকর্তার গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাকে ‘কষ্টদায়ক’ এবং ফিফার জন্য এটা ‘কঠিন সময়’ বলে উল্লেখ করলেও ফুটবলের বিশ্ব সংস্থাটির সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন না সেপ ব্ল্যাটার। ফিফার একজন মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 
আগামীকাল শুক্রবার পূর্বনির্ধারিত সময়েই ফিফা সভাপতি পদে নির্বাচন হবে বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। এ নির্বাচনে পঞ্চমবারের মতো প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন জর্দানের যুবরাজ আলি বিন আল-হুসেইন। এর আগে গত সপ্তাহে লুই ফিগো ও মিশেল প্রাগ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়ায় নির্বাচনটি দু’জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। যদিও গতকাল বুধবার সকালে সুইজারল্যান্ডের পুলিশের হাতে জুরিখের এক পাঁচ তারকা হোটেলে সাত ফিফা কর্মকর্তার গ্রেফতার হওয়ার আগ পর্যন্ত ব্ল্যাটারের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি বলে ভাবা হচ্ছিল।  ফিফার মুখপাত্র ওয়াল্টার ডি গ্রেগরিও এই ঘটনাকে সংস্থার জন্যে কঠিন সময় উল্লেখ করেন। তিনি এও জানান যে এটি শুক্রবারের নির্বাচনের উপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। এবং নির্বাচন থেকে সরেও দাঁড়াবেন না ব্ল্যাটার। কারণ নির্বাচনের সঙ্গে কর্মকর্তাদের এই গ্রেপ্তার ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। যদিও ফিফা সভাপতির এ নির্বাচনে ব্ল্যাটারের বিরোধিতা করছেন বিশ্ব ফুটবলের দুই দিকপাল দিয়েগো ম্যারাডোনা ও মিশেল প্লাটিনি। আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো ম্যারাডোনা তো সুইস ব্ল্যাটারকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে অভিহিত করে তার বিতৃষ্ণার কথা জানান। এছাড়াও ব্ল্যাটারের সমালোচনা করেছেন ইউরোপীয় ফুটবলের প্রধান এবং ফ্রান্সের সাবেক অধিনায়ক মিশেল প্লাটিনি। ম্যারাডোনা গত সপ্তাহে ডেইলি টেলিগ্রাফে লেখা তার কলামে বলেন- ব্ল্যাটার খেলাটিকে একটা ‘শোচনীয় লজ্জায়’ পরিণত করেছেন। এমনকি ফিফা মুখপাত্রও স্বীকার করছেন কালকের ঘটনাটি তাদের জন্য কঠিন সময়। গ্রেগরিও অবশ্য বলেন, ‘এটি ফিফার জন্যে ভালো। এটা নিশ্চিত করে যে, আমরা সঠিক পথেই আছি। এটা কষ্ট দেয়। এটা সহজ নয় কিন্তু এটাই চলার সঠিক পথ।’
 

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অনুরোধে সুইস পুলিশ গতকাল মানি লন্ডারিং, প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই কর্মকর্তাদের আটক করে। সুইস কর্তৃপক্ষ জানায়, গত দু’দশক ধরে ওই কর্মকর্তারা মানি লন্ডারিং, ঘুষ আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন প্রতারণামূলক কাজের মাধ্যমে লাখ লাখ ডলার ঘুষ হিসেবে নিয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।