সাতক্ষীরার আম যাচ্ছে ইউরোপের বাজারে

আপডেট : ২৮ মে ২০১৫, ১২:২৮
সাতক্ষীরা জেলার সাতটি জিনিস বিখ্যাত। এগুলো হচ্ছে :আম, কুল, ঘোল, ওল, মেলে (মাদুর তৈরির উপকরণ), কলমের চারা ও সন্দেশ। দেশব্যাপী এসব জিনিসের সুখ্যাতি রয়েছে। আর এই সাতটি জিনিসের মধ্যে সাতক্ষীরার সুস্বাদু আম এই প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যের বাজারে যাচ্ছে।
 
আমের এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী এ জেলার চাষিরা ক্ষতিকারক কীটনাশক পরিহার করে এ বছর ফলিয়েছে বিষ ও কীটনাশকমুক্ত আম। দেশের বাইরে আম রপ্তানি করার জন্য আম চাষিরা চলতি মৌসুমে গাছের মুকুল বের হওয়া থেকে শুরু করে পুষ্ট হওয়া পর্যন্ত নিবিড় পরিচর্যা করেছেন। তারা সফল। সাতক্ষীরার আম বিদেশ যাচ্ছে বলে এ জেলার আম চাষিদের মাঝে ব্যাপক উত্সাহ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
 
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার মাটি আম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এখানকার আম খুবই মিষ্টি এবং সুস্বাদু। এ জেলায় উত্পাদিত আম জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হয়ে থাকে। পারিবারিক ছাড়াও বাণিজ্যিকভাবে জেলাব্যাপী আমের চাষ হয়ে আসছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর, তালা, কালীগঞ্জ, দেবহাটা ও কলারোয়ায় আম চাষ বেশি হয়েছে। জেলার ৩ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে প্রতি হেক্টরে সাড়ে ১৩ টন হিসেবে চলতি মৌসুমে উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫০ হাজার টন। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
 
আম ব্যবসায়ীরা জানান, রাজধানীসহ সারাদেশে সাতক্ষীরার হিমসাগর, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, গোবিন্দভোগ, কিষাণভোগ, গোলাপখাস, শরিফখাস, রানীপছন্দ, লতা, বোম্বাই, রুপালী, মল্লিকা, কালাপাহাড়, আম্রপালি ও কাঁচামিঠা আমের ব্যাপক চাহিদা। সাতক্ষীরার বাজারে এখন আমের প্রাচুর্য। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাতক্ষীরার আমের চাহিদা থাকায় শুধু সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড়বাজার থেকেই প্রতিদিন ১৫টি ট্রাক ভর্তি আম যাচ্ছে দেশের সব অঞ্চলে। সব বাগানেই এখন আমপাড়ার ধুম পড়েছে।
 
জেলার ২০ জন চাষির বাগান থেকে কোন প্রকার স্প্রে ছাড়াই (বিষমুক্ত) উত্পাদিত আম বিশ্বের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যে রপ্তানি শুরু করেছে। প্রথম দফায় ল্যাবে পরীক্ষার পর ওয়ালমার্ট সাতক্ষীরার ২০ জন আম চাষির কাছ থেকে সম্প্রতি ৫০০ মণ হিমসাগর আম সংগ্রহ করেছে। রপ্তানিযোগ্য আমের দাম ভালো পাওয়ায় এ বছর আম শ্রমিকরা পাচ্ছে ভালো মজুরি।
 
এর আগে বাংলাদেশ থেকে আম রপ্তানির ব্যাপারে বিশ্বের শীর্ষ পণ্য ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল প্রকিউরমেন্ট লজিস্টিকেসর সঙ্গে কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর, হার্টেজ ফাউন্ডেশন ও এফএও’র একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ হার্টেজ ফাউন্ডেশন’র কারিগরি সহায়তায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় খুচরা পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট সাতক্ষীরার চাষিদের কাছ থেকে বাজার মূল্য থেকে অধিক মূল্য দিয়ে আম ক্রয় করছে।
 
আর এবারই প্রথমবারের মতো সাতক্ষীরার আম যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছে। এখন চলছে দ্বিতীয় চালানে আম পাঠানোর প্রস্তুতি। বিদেশে আম রপ্তানি করতে পেরে চাষিরা খুবই খুশি।
 
সাতক্ষীরায় উত্পাদিত হিমসাগর, ল্যাংড়া ও আম্রপালি জাতের আম বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। প্রথম চালানে রপ্তানি করা হয়েছে হিমসাগর। এরপর পর্যায়ক্রমে পাঠানো হবে ল্যাংড়া ও আম্রপালি জাতের আম।
 
বিদেশে আম রপ্তানির সংবাদে সাতক্ষীরার আম চাষিদের মধ্যে বেশ সাড়া জেগেছে। ফরমালিন, কীটনাশক ও বিষমুক্ত আম উত্পাদনে সহযোগিতা করছে স্থানীয় কৃষি সম্পসারণ বিভাগ।
 
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী আব্দুল মান্নান জানান, ফরমালিন, বিষ ও কীটনাশকমুক্ত আম রপ্তানি নিশ্চিত করা গেলে বিদেশে বাংলাদেশের আমের চাহিদা বাড়বে। তাই বিশ্ববাজারে আমের চাহিদা নিশ্চিত করতে এবং সুনাম কুড়াতে সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ আগামীতে চাষিদেরকে কারিগরি সহায়তা দেবে এমনটিই প্রত্যাশা আম চাষিদের।