বান্দরবানে এক পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা

আপডেট : ২৯ মে ২০১৫, ২৩:৫৮

বান্দরবানে ক্যায়ামলং এলাকায় শিশু’সহ একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা সকলেই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক বলে পুলিশের দাবি। বৃহস্পতিবার রাতে জেলার সদরের কুহালং ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে।

 
পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়ের ডলুপাড়াস্থ ক্যায়ামলং এলাকায়  আব্দুল মোতালেবের বাগান বাড়িতে ঢুকে এই হতাকাণ্ড ঘটায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। নিহতরা হচ্ছে-বাগানের কেয়ারটেকার মোহাম্মদ আমীন (৪০), তার বড়বোন সমিরা বেগম (৪৫), কেয়ারটেকারের দুই শিশু সন্তান ইফাত ফাতেমা (৭) এবং সৈয়দ নূর (১২)। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভিতর এবং বাগান থেকে লাশগুলো উদ্ধার করে। ময়না তদন্তের জন্য লাশগুলো সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
 

স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ঘটনাস্থলের আশপাশে কেয়ারটেকারের তৃতীয় স্ত্রী হাছিনা বেগম এবং স্ত্রীর ভাইসহ কয়েকজনকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক। পারিবারিক কলহের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বৃহস্পতিবার রাতের কোনো একসময় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কারণ রান্না করা ভাত পাতিলের মধ্যে রয়ে গেছে। নিহত কেয়ারটেকারের স্ত্রীসহ আত্মীয়-স্বজনেরা এই ঘটিয়ে থাকতে পারে। নিহতরা সকলেই রোহিঙ্গা নাগরিক। এখনো পর্যন্ত তাদের কোনো আত্মীয়-স্বজনকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আমির হোসেন বলেন, নিহত কেয়ারটেকারের তৃতীয় স্ত্রীর সঙ্গে তার পারিবারিক বিরোধ ছিল। স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকে মীমাংসার পর স্ত্রী চলে যায়। কিন্তু বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলের আশপাশে ওই স্ত্রীসহ আত্মীয়-স্বজনদের দেখা গেছে। হত্যার আলামত দেখে মনে হচ্ছে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কয়েকজন জড়িত ছিল। স্থানীয় কুহালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সানুপ্রু মারমা বলেন, ধারণা করা হচ্ছে সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হওয়ায় তৃতীয় স্ত্রী আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।