ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগে কৃষি নির্ভর রাজশাহীর অর্থনীতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটতে যাচ্ছে। দুটি দেশের বেশ কয়েকটি বড় কোম্পানি রাজশাহীতে বিনিয়োগ করছে। ইতিমধ্যেই ভারতীয় একটি কোম্পানি তাদের মোটরযান কারখানা চালু করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার তিনটি কোম্পানির রাজশাহীতে বিনিয়োগের প্রক্রিয়া অনেকদূর এগিয়েছে।
এ তথ্য দিয়ে রাজশাহী শিল্প বণিক সমিতির সভাপতি মনিরুজ্জামান জানান, আগামীতে একটি চায়না কোম্পানিও রাজশাহীতে বিনিয়োগ করার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে জানিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের এই শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা বলেন, বর্তমান সরকারের ইতিবাচক ও আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলেই এটা সম্ভব হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রাজশাহী কৃষিপ্রধান অঞ্চল। দেশের অন্য অঞ্চলের তুলনায় রাজশাহী ব্যবসা-বাণিজ্যে অনেক পিছিয়ে। পিছিয়ে অর্থনৈতিকভাবেও। ভারত ও কোরিয়ার বিনিয়োগে শিল্প প্রতিষ্ঠিত হলে রাজশাহীর বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জানা গেছে, সমপ্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার তিনটি মোটরযান নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ রাজশাহী এসে ঘুরে গেছেন। রাজশাহীতে অটোকার তৈরির কারখানা স্থাপনে রাজশাহী বিসিকে ৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে দক্ষিণ কোরিয়ার তিনটি মোটরযান নির্মাণ প্রতিষ্ঠান। বিএমজি, কেআরডাবলিউ, জিনওয়া কোম্পানি লিমিটেড ব্যাটারিচালিত অটোকার তৈরি করবে, যা বাংলাদেশের বাজারের সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপ ও আমেরিকায় রপ্তানি করা হবে।
এর আগে চলতি বছর মার্চ মাসে টাটা মোটরসের সহায়তায় রাজশাহীতে প্রথম মোটর শিল্প প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন করা হয়। এই কারখানা থেকে বছরে ৪০ হাজার টেম্পো বডি তৈরি হবে। এ উদ্যোগ দেশের অটোমোবাইল শিল্প খাতে নতুন মাত্রা সংযোজন করবে বলে আশা করেছেন নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল মাতলুব আহমাদ। গত মার্চে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি নিটল-নিলয় গ্রুপের কারখানার উদ্বোধন করেন। সাত বিঘা এলাকা জুড়ে স্থাপিত কারখানার ব্যবস্থাপনায় রয়েছে মিতা কোম্পানি লিমিটেড।
এদিকে এনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এমপি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার তিনটি শীর্ষ মোটরযান নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বিএমজি, কেআরডাবলিউ, জিনওয়া কোম্পানি’র সাথে গত ২৬ মার্চ এনা গ্রুপের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী তারা ৩০ কোটি ডলার ব্যয়ে রাজশাহীতে অটোকার তৈরির কারখানা স্থাপন করবে। সম্প্রতি উল্লেখিত তিনটি কোম্পানির ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রস্তাবিত কারখানার জমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, কারখানার জন্য কিছু যন্ত্রাংশ কোরিয়া থেকে আসবে এবং কিছু বাংলাদেশে তৈরি হবে। এখানে তৈরি অটোকার ইউরোপ ও পশ্চিমা দেশে রপ্তানিতে মংলাবন্দর ব্যবহার করা হবে।
প্রসঙ্গত, রাজশাহী বিসিক সমপ্রসারণের প্রস্তাব সংবলিত ডিপিপি একনেকের অনুমোদন পেয়েছে। ৫০ একর জমির ওপরে ১৩২ কোটি টাকা ব্যয় হবে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ৩০৮টি নতুন শিল্পপ্লট তৈরি হবে। যার মাধ্যমে পাঁচ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।