দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও নির্ভীক সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী খুলনায় যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে সোমবার বাদ আসর নগরীর রেলওয়ে হাসপাতাল রোডস্থ বায়তুল নাজাত জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো: হায়দার আলী হাওলাদার।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে মানিক মিয়ার অবদান ছিল অপরিসীম। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত আপনজন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন। ন্যায়ের পক্ষে লড়েছেন। তিনি সব সময় ছিলেন ন্যায় ও সত্যের পক্ষে। বক্তৃতা করেন বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট ড. জাকির হোসেন, অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন হাওলাদার, মনিরুজ্জামান প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন মেহেদী হাসান, সোহেল হাওলাদার, মো. ডালিম, নূরুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম, হারুন অর রশিদ, আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া, স্বপন, আলাউদ্দিন, আব্দুল হালিম প্রমুখ। পরে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন বায়তুল নাজাত জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা ওসমান গনি।
অপরদিকে, সোমবার সন্ধ্যায় মানিক মিয়া স্মরণ সভা পালন কমিটির পক্ষ থেকে নগরীর খালিশপুরস্থ খুলনা বিদ্যুৎ কেন্দ্র শ্রমিক ইউনিয়ন মিলনায়তনে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বর্ষীয়াণ শ্রমিক নেতা আলহাজ্ব লোকমান হাকিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় পার্টির (জেপি) কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান শরীফ শফিকুল হামিদ চন্দন। বক্তৃতা করেন জাতীয় মহিলা পার্টির মহানগর আহ্বায়ক আয়শা বেগম মালা, মহানগর যুব সংহতির আহ্বায়ক সৈয়দ আল আমিন প্রমুখ।
এর আগে বিকালে খুলনা মহানগর জাতীয় পার্টির (জেপি) উদ্যোগে নগরীর শেরে বাংলা রোডস্থ দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও নির্ভীক সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর জেপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক রাশিদা করিম।
সভায় বক্তারা বলেন, নীতির প্রশ্নে, বাংলার মানুষের পক্ষে মানিক মিয়া ছিলেন আপসহীন। তিনি যেমন বাংলা সাংবাদিকতার পথ প্রদর্শক, তেমনি রাজনীতিরও পথ প্রদর্শক ছিলেন তিনি। তাঁর ক্ষুরধার লেখনি ও আপসহীন ভূমিকার কারণে তৎকালীন প্রতিক্রিয়াশীল পাকিস্তানি সরকার বার বার তাঁর লেখনি ও কণ্ঠ স্তব্ধ করতে চেয়েছে। কিন্তু তিনি সব ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ও স্বৈরাচারী শাসকের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে ক্ষুরধার লেখনির মাধ্যমে আজীবন সোচ্চার থেকেছেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য ও খুলনা মহানগর জেপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী মুক্তিযোদ্ধা শাহীন আজাদ। সভা পরিচালনা করেন মহানগর সম্মেলন প্রস্ততি কমিটির সদস্য সচিব চৌধুরী হাবিবুর রহমান। বক্তৃতা করেন কাজী মাসুদ আহমেদ, অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন প্রমুখ। এতে মহানগর জেপির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন নির্ভীক সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পৃথক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।
