ভারতে চলন্ত ট্রেনে ধর্ষণের পর খুন হওয়া খুলনার গৃহবধূ নার্গিস আক্তারের লাশ প্রায় দেড়মাস পর ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নগরীর বসুপাড়া কবরস্থান থেকে তার লাশ উত্তোলন করা হয়। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ এবং নিহতের আত্মীয়-স্বজনসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। লাশ উত্তোলনের পর কবরস্থানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল মামুন লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করেন। পরে লাশ ময়না তদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। নার্গিস খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ৩/১, কেডিএ রোডের সাহাবুদ্দিনের মেয়ে।
নার্গিসের মামী রাহেলা বেগম ও বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী এলিনা খানের একটি রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২৪ মে লাশ উত্তোলনের আদেশ দেন। আগামী ১৬ জুনের মধ্যে পুলিশ কমিশনার ও সোনাডাঙ্গা থানার ওসিকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে নার্গিসের লাশ ভারত থেকে বাংলাদেশে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের সময় দেয়া যাবতীয় কাগজপত্র এ সময়ের মধ্যে আদালতে উপস্থাপন করতে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ আহমেদ বলেন, চলতি বছরের ৯ মার্চ নার্গিস বেগম তার মা ও শিশু কন্যাকে নিয়ে বৈধভাবে ভারতে যান। সেখানে হাওড়া থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে কানপুর নামক স্টেশন থেকে নার্গিসকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। পরবর্তীতে ১৩ মার্চ তার ক্ষত-বিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। দূতাবাসের মাধ্যমে লাশ দেশে ফেরত এনে খুলনার বসুপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী এলিনা খান লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য হাইকোর্টে রিট করেন।
