পুঁজিবাজার সম্প্রসারণের পদক্ষেপ হিসেবে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কিছু সুবিধা দেয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে স্টক এক্সচেঞ্জ ও বাজার-সংশ্লিষ্টদের বেশ কিছু দাবির প্রতিফলন দেখা গেছে এবারের বাজেটে।
পুঁজিবাজারের জন্য প্রস্তাবিত সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিনিয়োগকারীদের করমুক্ত লভ্যাংশের সীমা বৃদ্ধি, তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট করহার হ্রাস, মিউচুয়াল ফান্ডের করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি এবং বিএসইসির আয়ে কর অব্যাহতি। এ ছাড়া, কোম্পানিকে ভাল লভ্যাংশ প্রদানে উত্সাহ এবং আইপিওর জন্য কর রেয়াতসহ বেশ কিছু সুবিধা দেয়া হয়েছে পুঁজিবাজারের জন্য।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পুঁজিবাজার সম্পর্কে বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, ‘আমরা সব সময় শুধু পুঁজিবাজারের ধস নিয়ে অলোচনা করি। কিন্তু বিগত চার বছরে বাজার একটি ভালো অবস্থানে পৌঁছেছে। পুঁজিবাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আরো কোম্পানিকে বাজারে আকৃষ্ট করতে চাই। এ জন্য বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে—এবারের বাজেটে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের করমুক্ত লভ্যাংশের সীমা ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে ভালো লভ্যাংশ দেয়ার বিষয়ে উত্সাহিত করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি অন্তত ১৫ শতাংশ (পরিশোধিত মূলধনের) লভ্যাংশ বিতরণ না করলে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ কর দিতে হবে। এ কর আরোপ করা হবে অবণ্টিত নিট মুনাফার ওপর (মুনাফা থেকে লভ্যাংশ বাদ দিলে যা থাকবে)। আর্থিক খাত তথা—ব্যাংক, বিমা ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না। বাড়তি ৫ শতাংশ হারের এ কর এড়াতে কোম্পানিকে অবশ্যই হিসাব বছর শেষ হওয়ার ৬ মাসে মধ্যে লভ্যাংশ ঘোষণা করতে হবে। অর্থ আইন-২০১৫ তে বলা হয়েছে—কোনো কোম্পানি তার পরিশোধিত মূলধনের ২০ শতাংশ শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে ছাড়লে ওই কোম্পানি সংশ্লিষ্ট বছরের প্রযোজ্য আয়করের ওপর ১০ শতাংশ কর রেয়াত পাবে। এ ছাড়া, আগামী অর্থ বছরের বাজেটে কোম্পানি ও ফার্মের শেয়ারবাজার থেকে অর্জিত মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে উেস কর কর্তন সংক্রান্ত বিধান প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে উেস কর আদায়ের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো। এ ছাড়া, বন্ড মার্কেট উন্নয়নের স্বার্থে ট্রেজারি বন্ড এবং ট্রেজারি বিলের সুদের ওপর ৫১ ধারার অধীনে ক্রয়ের সময়ই উেস ৫ শতাংশ হারে কর কর্তনের বিধান প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে করহার সাড়ে ৪২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। মার্চেন্ট ব্যাংকের করহার সাড়ে ৩৭ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আর্থিক খাত ব্যাতিত অন্যান্য কোম্পানির করহার সাড়ে ২৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। টেলিকম কোম্পানির ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ৪০ শতাংশ ও তালিকা-বহির্ভূত কোম্পানির ৪৫ শতাংশের পূর্বের অবস্থা বহাল রাখা হয়েছে। আর তালিকাভুক্ত সিগারেট প্রস্তুতকারী কোম্পানির ক্ষেত্রে করহার ৪০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা তালিকা বহির্ভূত সিগারেট প্রস্তুতকারী কোম্পানির করহারের সমান।
এ ছাড়া, ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ড এবং ফিক্সড ইনকাম মিউচুয়াল ফান্ডের আয় উভয় ক্ষেত্রে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের আয়কে প্রথম বছর ১০০ ভাগ, দ্বিতীয় বছর ৮০ ভাগ, তৃতীয় বছর ৬০ ভাগ, চতুর্থ বছর ৪০ ভাগ এবং পঞ্চম বছর ২০ ভাগ পর্যন্ত কর অব্যাহতির সুবিধা দেয়া হয়েছে।
