মোবাইল ফোনে কথা বললেই এখন থেকে ৫ শতাংশ হারে বাড়তি কর দিতে হবে। শুধু কথা বলা নয়, ইন্টারনেট ব্যবহারসহ মোবাইল ফোনের সিম ব্যবহারের মাধ্যমে যত ধরনের সেবা নেয়া হবে সব কিছুর উপরই এ বাড়তি কর প্রযোজ্য হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে বাজেট বক্তব্য উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ প্রস্তাব দিয়েছেন।
বর্তমানে একজন গ্রাহক মোবাইল সেবার উপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রদান করছেন। অর্থাত্ ১০০ টাকার কথা বললে ১১৫ টাকা দিতে হচ্ছে। নতুন ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক হিসেবে আরোপ করার মাধ্যমে আগামী অর্থবছর থেকে গ্রাহককে সব মিলিয়ে ২০ শতাংশ কর দিতে হবে। অর্থাত্ ১০০ টাকার কথা বললে ১২০ টাকা দিতে হবে। এর মাধ্যমে সরকার প্রায় ১ হাজার ২শ’ কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আদায় করতে চায়। অবশ্য মোবাইল ফোনের সিম বিক্রির ক্ষেত্রে বিদ্যমান কর ৩শ’ টাকা থেকে কমিয়ে ১শ’ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। গত অর্থবছরে মোবাইল ফোনের সেবার উপর ১ শতাংশ হারে সারচার্জ আরোপ করা হলেও আইনি জটিলতায় তা কার্যকর করা যায়নি।
বর্তমানে সরকারি মোবাইল ফোন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান টেলিটক ছাড়াও বেসরকারি খাতের গ্রামীণ ফোন, বাংলালিংক, রবি অজিয়াটা, এয়ারটেল ও সিটিসেল মোবাইল সিম বা রিমের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে। ১৬ কোটি মানুষের এ দেশে অর্ধেকের বেশি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। যদিও মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর তথ্য অনুযায়ী সচল সিম ১২ কোটি ৪০ লাখ। গ্রাহক কথা বলা ছাড়াও, ক্ষুদে বার্তা, ইন্টারনেট ব্যবহারসহ আরো বেশকিছু সেবা নিয়ে থাকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে।
মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহককে সেবা দেয়ার বিনিময়ে প্রাপ্ত ভ্যাট ও কোম্পানির মুনাফায় কর্পোরেট কর মিলিয়ে কোম্পানিগুলো বছরে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা সরকারকে দিচ্ছে।
মোবাইল ফোনের সেবার উপর বাড়তি এ করারোপের সিদ্ধান্তে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে গ্রাহকদের মধ্যে। গ্রাহকরা বলছেন, একজন অতি সাধারণ ক্ষুদ্র আয়ের মানুষও বর্তমানে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। নতুন এ সম্পূরক শুল্ক আরোপ হলে বাড়তি করভার তার উপরও পড়বে।
মোবাইল ফোনের সেবার উপর বাড়তি করারোপে উদ্বেগ জানিয়েছে মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোও। গতকাল মোবাইল অপারেট রবি’র পক্ষ থেকে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, মোবাইল সেবায় ৫ শতাংশ বাড়তি সম্পূরক শুল্ক আরোপ গ্রাহকদের ওপর চাপ হিসেবে দেখা দেবে। এতে রাজস্বও কমে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। অবশ্য সিম ট্যাক্স কমানোর সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে কোম্পানির পক্ষ থেকে।
