তিনটি বিদেশি রাষ্ট্রের গবেষণাগারসহ নিজেদের ১৭টি অঙ্গরাজ্যের মোট ৫১টি গবেষণাগারে প্রাণঘাতী অ্যানথ্রাক্স জীবাণু পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এ ছাড়া, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার তিনটি গবেষণাগারেও এ সব জীবাণু পাঠানো হয়েছে। এ আশঙ্কাজনক তথ্যটি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তারা জানান—গত সপ্তাহে অ্যানথ্রাক্স পাঠানোর আরো কিছু ঘটনা উদ্ঘাটিত হয়েছে। খবর বিবিসির।
পেন্টাগন কর্মকর্তাদের এ ঘোষণায় অ্যানথ্রাক্স জীবাণু পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাগারগুলোর সংখ্যা দ্বিগুণে পরিণত হয়েছে।
এত গবেষণাগারে মারাত্মক সংক্রামক এ সব জীবাণু পাঠানো হলেও কেউ এতে আক্রান্ত হননি বলে দাবি করেছেন পেন্টাগন কর্মকর্তারা। তবে বেশ কিছু গবেষণাগারের কর্মীদের আগাম সতর্কতা হিসেবে অ্যানথ্রাক্সের চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা। ঘটনাগুলো আশঙ্কাজনক হলেও এতে জনসাধারণের কোনো ঝুঁকি নেই বলে দাবি করেছেন ওই কর্মকর্তারা।
অ্যানথ্রাক্স জীবাণু পাঠানো হয়েছে—এমন গবেষণাগারের সংখ্যা আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন পেন্টাগন কর্মকর্তা রবার্ট ওয়ার্ক। এ সব জীবাণু সচেতনভাবে পাঠানো হয়নি বলে দাবি করেছেন ওই কর্মকর্তারা।
এক আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী নিজেদের সব গবেষণাগারকে আগে পাঠানো নির্জীব অ্যানথাক্স জীবাণুর নমুনাও পরীক্ষা করে দেখতে বলেছে। পরীক্ষা করা ছাড়া এ সব নমুনা নিয়ে আর সব গবেষণা স্থগিত রাখারও আদেশ দেয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের এক সামরিক গুদাম থেকে এ সব প্রাণঘাতী জীবাণু সাধারণ বাণিজ্যিক ডাকযোগে ১০ বছর ধরে পাঠানো হয়েছে।
এ সব ঘটনার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে কেন্দ্র (সিডিসি)।
জীবাণুঅস্ত্র নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা দায়িত্বে অবহেলাজনিত এ ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে সর্বাধুনিক আগাম সতকর্তা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
অ্যানথাক্স জীবাণুর সংস্পর্শে এলে ত্বকে জ্বালাপোড়া, পাকস্থলীর গণ্ডগোল, বমিভাব ও জ্বর দেখা দেয়, এ সব লক্ষণ প্রকাশের একপর্যায়ে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
