জামালপুরে যমুনার ভাঙনে ৭ দিনে নদীগর্ভে ৫০ বাড়ি

আপডেট : ০৬ জুন ২০১৫, ০১:২১

জামালপুরে যমুনার ভাঙনে গত এক সপ্তাহে ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি বসতবাড়ি  যমুনা নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের শিকার হতে চলেছে শতাধিক বসতবাড়ি, অসংখ্য গাছ-পালা, হাটবাজার, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ হাজার হাজার একর ফসলী জমি। ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দির বাঁধ থেকে গুঠাইলবাজার বাঁধ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ঘূর্ণায়মান স্রোতের কারণে বর্ষার আগে এই শুকনো মৌসুমেই ভাঙন শুরু হয়েছে।

 

ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেলগাছার ঘোনাপাড়া, গোয়ালের ডোবা, মাঝপাড়া, মধ্য বেলগাছা থেকে শুরু করে গুঠাইল বাজার পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা।  কুলকান্দির উজানে এবং গুঠাইলের ভাটিতে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন রোধে বালির বস্তা ডাম্পিং-এর কাজ হলেও মাঝখানে সাড়ে ৫ কিলোমিটার অংশে ডাম্পিং না করায় ধনুর বাগ এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। যেভাবে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে তাতে গুঠাইলের ভাটি এলাকা থেকে উলিয়া বাজার পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার ডাম্পিং করা অংশ নদীর মাঝে চলে যাবার আশংকা রয়েছে। আর সেটি হলে সরকারের ৪৮৫ কোটি টাকার প্রকল্প সম্পূর্ণ ভেস্তে যাবে।

 
এদিকে প্রকল্পটির ক্ষেত্রে এমন আশংকা থাকা সত্ত্বেও পাউবো দ্রুত কোন কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় হতাশায় ভুগছেন এলাকাবাসী। জামালপুরে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী নবকুমারের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, কুলকান্দি-গুঠাইল বাজারের মাঝখানের অংশে ডাম্পিং এর জন্য বিগত বছরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্লানিং কমিশনে পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নির্দেশ পেলে ভাঙন ঠেকাতে ডাম্পিং করা সম্ভব হবে।
 
এ বিষয়ে স্থানীয় এমপি আলহাজ্ব ফরিদুল হক খান দুলাল বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকার জন্য ২০৭ কোটি টাকার প্রকল্পের কাগজ পত্র প্লানিং কমিশনে জমা আছে। তাদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি এবং কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করতে অনুরোধ করেছি। অথচ পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও উদাসিনতার কারণে শুকনো মৌসুমে ভাঙ্গন এলাকায় ডাম্পিং-এর কাজ না করায় আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে নদী।
 

১৯৯০-এর দশকে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গুঠাইল হাটের কংক্রিট বাঁধটি উজানে ক্রমাগত ভাঙ্গনের ফলে ঘূর্ণায়মান পানির আবর্তে বিলীন হতে চলেছে। বেলগাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল খালেক জানান, যমুনার ভাঙনে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঘরবাড়ি ভিটে মাটি, ফসলী জমিসহ সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে তার এলাকার অর্ধশতাধিক পরিবার। কংক্রিট বাঁধের বিশাল অংশ যমুনায় ধসে গেছে। গত ১০ বছরে  ঐ এলাকায় বাস্তুহারা হয়েছে দেড় লক্ষাধিক মানুষ। নোয়ারপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বাদল বলেন, গত দু’বছর ডাম্পিং-এর কাজ মোটামুটি ভাল হয়েছে। তবে এ বছর শুকনো মৌসুমে ভাঙন স্থলে বালুর বস্তা ডাম্পিং না করায় বর্ষায় তড়িঘড়ি ডাম্পিং-এর কাজ করা হলে ভাঙন রোধে তা কোন কাজে আসবে না।