থাইল্যান্ড থেকে পাচারকারীরা পরিবারের কাছে মুক্তিপণ চেয়ে হুমকি দিচ্ছে

আপডেট : ০৬ জুন ২০১৫, ২৩:৫৮

ঝিনাইদহ জেলা থেকে সাগরপথে পাচার হওয়া ব্যক্তিদের বাবা-মা ও স্বজনদের কাছে মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ দাবি করছে থাইল্যান্ডে অবস্থানরত পাচারচক্রের দালালরা। নইলে পাচারকৃতদের হত্যার করা হবে বলে হুমকি দিচ্ছে। গতকাল শনিবার শৈলকুপা থানাতে দুই পাচারকারী দালাল রঘুনন্দনপুর গ্রামের সোহেল ও আনিসের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

 
গতকাল শনিবার সকালে থাইল্যান্ডের একটি মোবাইল ফোন থেকে শৈলকুপা উপজেলার মাধবপুর ও নাগিরাট গ্রামের পাচার হওয়া চার যুবকের বাড়িতে ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। নইলে তাদের মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয়া হয়েছে। মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের নাগিরাট গ্রামের মহিলা সদস্যা রিজিয়া বেগম জানান, রঘুনন্দনপুর গ্রামের মানব পাচারের দালাল সোহেল ও আনিস তার ছেলে লিটনসহ ৭ জনকে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচার করে। প্রায় দু’মাস তাদের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তারা হচ্ছেঃ রমজান শেখ, সোবহান শেখ, সোহেল শেখ, লিটন জোয়ার্দার, নজির মোল্লা, হাসান মোল্লা ও মিরাজ শেখ। এদের মধ্যে হাসান মোল্লা ও মিরাজ উদ্ধার হয়ে আশ্রয়শিবিরে আছে বলে শৈলকুপা থানার মাধ্যমে জানতে পাওয়া গেছে। বাকী ৫ জন দালালদের কাছে বন্দি রয়েছে। লিটনের মা জানান, মোবাইল ফোনে ছেলে কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকে ‘মা বাঁচাও’। তাকে টাকার জন্য আটকে রেখে মারপিট করা হচ্ছে। টাকা না পেলে মেরে ফেলবে। মোবাইলে মারপিটের শব্দ শোনানো হয়। সোবহান শেখের বাবা মনোয়ার শেখ ও রমজানের বাবা মজনু শেখও একই ধরনের কথা বলেন। তারা জানান, স্থানীয় দালাল সোহেল ও আনিস গা-ঢাকা দিয়েছে।
 

 শৈলকুপা থানার ওসি মোঃ হাশেম খান জানান, পাচার হওয়া লিটনের মা রিজিয়া বেগম দালাল সোহেল ও আনিসের নামে গতকাল শনিবার শৈলকুপা থানাতে মামলা করেছেন। শুক্রবার একই থানাতে ইব্রাহিমপুর গ্রামের পাচার হওয়া শাহাবুদ্দিনের বাবা আইয়ুব হোসেন, হরিণাকুন্ডু উপজেলার শাখারিদহ ও বাসুদেবপুর গ্রামের মানব পাচারকারী দালাল ইউনুস মন্ডল এবং লাল্টুর নামে মামলা করেছেন। এজাহারে তিনি অভিযোগ করেছেন, তার ছেলেসহ ৩ জনকে আকাশপথে বৈধ পথে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে সাগরপথে পাচার করেছে আসামিরা। তারা এখনও নিখোঁজ রয়েছে।