আওয়ামী লীগের সেই ২৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৫, ২০:৫০
 
ফেনীতে অস্ত্রসহ আটক আওয়ামী লীগের ২৬ নেতাকর্মীকে গতকাল রবিবার বিকালে থানায় সোর্পদ করা হয়েছে। এ ঘটনায় র‌্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্পের ডিএডি মোহাম্মদ ইব্রাহিম ফেনী সদর থানায় মামলা করেছেন।  এ নিয়ে ফেনীতে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। পুলিশশের আইজি এ কে এম শহীদুল হক বলেন, কে কোন দলের সেটা দেখার বিষয় নয়। আইন অনুযায়ী সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ নেই।
 
ফেনী জেলা পুলিশ সুপার রেজাইল হক বলেন, গ্রেফতারকৃতদের অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে।  তবে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়নি।
 
ciïivg msev``vZv w`j`vi †nv‡mb ¯^cb জানান, রবিবার বিকেল সোয়া চারটায় ২৬ আসামিকে ফেনী মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। বিকেলে সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশি পাহারায় ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আলমগীর মুহাম্মদ ফারুকী এর আদালতে হাজির করা হয়। আদালত আসামিদের জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেয়।
 
শনিবার রাতে ১৭টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ আওয়ামী লীগের ২৪ নেতা কর্মীসহ ২৬ জনকে আটক করে র‌্যাব। এ ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ অবরোধকারীদের হটিয়ে দিলে তিন ঘন্টা পর রাত ১০টার দিকে যাবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
 
ঘটনা সম্পর্কে ফেনী-২ আসনের এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী বলেন, গ্রেফতারকৃতরা আমার অনুসারী নয়। তারা সবাই আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী। আটকৃত সব অস্ত্রই বৈধ এবং  লাইসেন্স আছে। কাগজ পত্র দেখানোর পরও র‌্যাব তাদেরকে ছাড়েনি। উদ্ধার হওয়া রাম দা ও চাইনিজ কুড়াল সম্পর্কে তিনি বলেন, এগুলো র‌্যাবই সাজিয়েছে।
 
ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, গত ফেনীর সোনাগাজীতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয় যুবলীগ কর্মী আজিজুল হক। এ ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্দ্যোগে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। ওই প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ফেনী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বিক্রম। তবে আমি ওই প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলাম না। প্রতিবাদ সভাশেষে ফেরার পথে র্যাব নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে।
 
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কিছুদিন পর থেকে ফেনী-২ আসনের এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীর সাথে ফেনী-৩ স্বতন্ত্র এমপি রহিম উল্লাহর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জের ধরে দুই জন সংসদ সদস্যের কর্মী ও সমর্থকদের মাঝে কয়েক ধফা সংঘর্ষ হয়। যুবলীগ কর্মী নিহত হবার ঘটনায় নিজাম হাজারীর অনুসারীরা এমপি রহিম উল্লাহ দায়ী করে। প্রতিবাদ সভায় তার গ্রেফতার দাবী ও কুশপুতলিকা দাহ করা হয়।
 
ঘটনা সম্পর্কে ফেনী -৩ আসনের এমপি রহিম উল্লাহ বলেন, প্রতিবাদ সমাবেশের মূল উদ্দ্যেশ ছিল আমার সোনাপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ। কিন্তু পুলিশ পাহাড়ায় থাকায় তারা এ অঘটন ঘটাতে ব্যর্থ হয়। হামলাকারীরা ১২টি মাইক্রোবাসে করে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। র্যাব  তিনটি মাইক্রোবাস অস্ত্রসহ আটক করতে সক্ষম হয়। অপর মাইক্রোবাস গুলো আটক করা গেলে আরও অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হতো। যুবলীগ কর্মী আজিজুল হক নিহত ব্যাপারে তিনি বলেন- আজিজুল আমার গ্রামের ছেলে এবং আত্মীয়। তার ঘটনার একদিন আগে আমি অস্টেলিয়াতে গিয়েছিলাম। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে তা মিথ্যা।
 
অপর দিকে প্রতিবাদ সভাশেষে বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন এমপি নিজাম হাজারী।
 
র‌্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্পের পরিচালক মেজর মোজাম্মেল হক বলেন, গ্রেফতারকৃতদের ফেনী সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। বৈধ অস্ত্র এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অস্ত্র বৈধ হলেও অন্যের কাছে থাকাটা তো বৈধ নয়।