১১ মাসে রফতানি আয় দুই হাজার ৮১৪ কোটি ডলার

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৫, ১৯:৪৫
চলতি অর্থবছরের (২০১৪-১৫) জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে দুই হাজার ১৪ কোটি ৪৩ লাখ ডলারের রফতানি হয়েছে। এতে এ সময় পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি দুই দশমিক ৮০ শতাংশ। তবে এ আয় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ছয় দশমিক এক শতাংশ কম। অন্যদিকে একক মাস হিসাবে মে মাসে রফতানি আয় হয়েছে ২৮৪ কোটি ১৪ লাখ মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের মে মাসে রফতানি হয়েছিল ২৭২ কোটি ২১ লাখ ডলার যার প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের চেয়ে চার দশমিক ৩৭ শতাংশ বেশি। তবে একক মাসের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় গত মে মাসে আট দশমিক ৫৭ শতাংশ কম রফতানি হয়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
 
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের জন্য রফতানি আয়ের লক্ষমাত্রা ছিল দুই হাজার ৯৯৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। আর পুরো বছরের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন হাজার ৩২০ কোটি ডলার। তাই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হতে হলে চলতি মাসে ৩২৬ কোটি ডলার রফতানি হতে হবে। কিন্তু এক মাসের জন্য এটি অনেক বেশি হওয়ায় চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ধরে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার ঘেরাটোপ থেকে বের হতে পারছে না। রফতানিকারকরা বলছেন, গত বছরের সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং চলতি বছরের প্রথম দিকে তিনমাস লাগাতার হরতাল-অবরোধ রফতানি আয়ের ওপর প্রভাব ফেলেছে। রাজনৈতিক সহিংসতা ও হরতাল-অবরোধ যে ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়নি। এসব কারণে বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর কাঙ্ক্ষিত রফতানি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে না এবং লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
 
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, বরাবরের মতো এ ১১ মাসের আয়ের বড় অংশ এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। নিটওয়্যার ও ওভেন দুটি পণ্যের ক্ষেত্রে বিগত বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হলেও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে আছে। জুলাই-মে সময়ে নিটওয়্যার উপখাতে এক হাজার ১৯১ কোটি ৯১ লাখ ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রফতানি হয়েছে এক হাজার ১১৬ কোটি ৭৫ লাখ। এক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ছয় দশমিক ৩১ শতাংশ কম এবং গত অর্থবছরের তুলনায় ২ দশমিক ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আর ওভেন পোশাক পণ্য রফতানি হয়েছে এক হাজার ১৭৫ কোটি ৭২ লাখ ডলারের, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় চার দশমিক ৭২ শতাংশ কম, তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চার দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি।
 
এছাড়া অন্যান্য পণ্যের মধ্যে আলোচ্য সময়ে হিমায়িত পণ্য রফতানি হয়েছে ১০৭ কোটি ১৩ লাখ ডলারের, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে পাঁচ দশমিক ১৯ শতাংশ কম। হোম টেক্সটাইল রফতানি হয়েছে ৭৪ কোটি ২০ লাখ ডলারের। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এটি কম হলেও গতবছরের একই সময়ের তুলনায় তা বেড়েছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি হয়েছে ১০২ কোটি ২২ লাখ ডলারের। যা লক্ষ্যমাত্রা ও প্রবৃদ্ধি দুদিক থেকেই কম। অন্যদিকে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি হয়েছে ৭৯ কোটি ৪২ লাখ ডলারের। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পাঁচ দশমিক ৪২ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পাঁচ দশমিক এক শতাংশ বেশি।