অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষী হলেও তা আদায় করা সম্ভব হবে।
সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের সাথে এক বৈঠকশেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অব্যশই উচ্চাভিলাষী। তবে আপনারা লক্ষ্য করলে দেখবেন, গত ৬ বছরে এনবিআরের জনবল বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩শ’ থেকে ২ হাজার ২শ’ জনে। নতুন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আমরা এ জনবল দিয়ে আগামী বছর করযোগ্য ব্যক্তিদের করের আওতায় আনার ওপর বেশি গুরুত্ব দেবো। আশা করি, এনবিআর নতুন করদাতা খুঁজে বের করে রাজস্ব আয় পূরণ করতে সক্ষম হবে।
তিনি করদাতাদের ওপর পরিচালিত এক জরিপের ফলাফল তুলে ধরে বলেন, দেশে এখন ১১ লাখ করদাতা রয়েছেন। কিন্তু জরিপে উঠে এসেছে, এটা দ্বিগুণ করা সম্ভব।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে সংস্থার চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে আয়কর থেকে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকা। আর প্রস্তাবিত বাজেটে এর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে আয়কর আদায় ১৫ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা বাড়াতে হবে এবং সেটা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এক বছরে ২৩ শতাংশ রাজস্ব আয় বাড়ানোর অভিক্ষতা আছে। এনবিআরের জনবল বেড়েছে, তৈরি হয়েছে সক্ষমতা। এতে আশা করি আগামী অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আয় ৩০ শতাংশ বাড়াতে পারবো।’
মুহিত বলেন,এবারের বাজেটে বড় পরিবর্তন হলো-আয়কর ও করপোরেট কর রাজস্ব আয়ের সবচেয়ে বড় খাত হিসেবে চিহ্নিত করা। এটা আগে কখনও ছিলো না। এছাড়া এবার সেভাবে করহার বাড়ানো হয়নি। কিছু পণ্যকে করের আওতায় আনা হয়েছে। এর মূল কারন হলো আমরা করহার নয়, করজাল বাড়ানোর মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি।
তিনি বলেন, বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে অনেক করযোগ্য ব্যক্তি রয়েছেন। আমরা এ কারণে ঢাকার বাইরে বিশেষত উপজেলা পর্যায়ে করদাতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করবো।
এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামে ন্যুনতম করহার একই থাকবে। দেশের অন্যান্য শহর এবং গ্রামীণ পর্যায়ে ন্যুনতম করহার আলাদা হবে।
উল্লেখ্য, আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে এনবিআর কর-এক লাখ ৭৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা, এনবিআর বহির্ভূত কর-৫ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা এবং কর ব্যতীত প্রাপ্তি-২৬ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা।
