টানা ১১টি টেস্টে অর্ধশতক হাঁকিয়ে নাম লিখিয়েছেন ভিভ রিচার্ডস, গৌতম গম্ভীর ও বীরেন্দর শেবাগের পাশে। বুধবার থেকে ফতুল্লায় শুরু হতে যাওয়া ভারতের বিপক্ষে টেস্টে আর একটি হাফ-সেঞ্চুরি’র ইনিংস খেলতে পারলেই ভাগ বসাবেন এবি ডি ভিলিয়ার্সের রেকর্ডে, টানা ১২টি অর্ধশতকে যে তালিকায় সবার উপরে আছেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান। এমন রেকর্ডের সামনে দাড়িয়েও বরাবরের মতোই শান্ত মুমিনুল। রেকর্ড নিয়ে না ভেবে নজর দিচ্ছেন ভারতের বিপক্ষে স্বভাবজাত খেলাটাই খেলা যাওয়ার দিকে—
এবি ডি ভিলিয়ার্সকে আপনি কি প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছেন?
আমিতো উনার আশে পাশে নেই। আপনারাই জানেন উনি সব ফরম্যাটেরই রাজা। আমি মনে করি না যে আমি উনার প্রতিদ্বন্দ্বী।
ভিলিয়ার্সকে ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য সামনের টেস্টে একটা সুযোগতো রয়েছে?
আসলে সেটা নিয়ে চিন্তা করছি না, কার পাশে বসব কি বসব না। আমি আগের ম্যাচগুলোতে যেভাবে খেলে আসছিলাম এখনো চিন্তা করব সেভাবেই খেলার। এই টার্গেটাই আছে, যেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি এবং আপনারা যেমন প্রত্যাশা করেন, দেশের মানুষ যেভাবে প্রত্যাশা করে এবং আমার যেটা টার্গেট সেটা অর্জন করার চেষ্টা করব। কারো পাশে বসার জন্য নয়।
আগেও বলেছিলেন রেকর্ডটা মাথায় থাকে না; কিন্তু এখন যখন রেকর্ডটা একদম কাছে। বিষয়টা কাজ করে না মনের মধ্যে?
না, কাজ করে না। আপনারা যখন বলেন তখন একটু মনে পড়ে। এরপর আবার ভুলে যাই।
এটা কি চাপ সৃষ্টি করে কি-না?
না চাপ অনুভব হয় না। আপনারা চলে গেলে আর মনে থাকবে না। চেষ্টা করব পরবর্তীতে যেন মনে না থাকে।
টেস্ট বিশেষজ্ঞ হয়ে থাকাটা কিভাবে দেখেন কিংবা কতটুকু মেনে নিতে পারেন??
মেনে নেওয়া, না নেয়ার কিছু নেই। এখন টেস্টে ভাল করছি তাই অনেকে বলছে আমি টেস্ট খেলোয়াড় হয়ে গেছি। আবার হয়তো অন্য ফরম্যাটে ভাল করলে ওটাতেও ভাল বলবে। যেখানে আমার ঘাটতি আছে সেখানে যদি আমি ভাল ফারফরম্যান্স করতে পারি সেক্ষেত্রে ওখানেই আমি ভাল সুযোগ পাব। এখন এটা নিয়ে যদি আমি বেশি চিন্তা করি তাহলে সবকিছুই হারাব।
ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলতে যাচ্ছেন, এটা নিয়ে নিশ্চয়ই কোন রোমাঞ্চ কাজ করে।
প্রত্যেকটা ম্যাচের আগেই এমন কাজ করে। চিন্তা থাকে ভাল খেলতে হবে। রান করতে হবে। এখনও ওই রকমই কাজ করছে। অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে খেলার সময় যেমন কাজে করে তেমই কাজ করছে।
বিশ্বকাপের পরাজয়টা এখানে প্রভাব ফেলবে কি-না?
আমার মনে হয় না কোন প্রভাব ফেলবে।
ভারতের বোলিংটাকে আপনি কিভাবে দেখেন?
আমার মনে হয় ভারতের বোলিং লাইন-আপ আগের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক ভাল। দুই জন স্পিনারই কোয়ালিটি স্পিনার। একজন অনেক দিন খেলেছেন। অশ্বিনও ভাল করছেন। এতো চিন্তা করছি না। এতো ভয়ভীতি নিয়ে খেললে খেলাতে প্রভাব পড়তে পারে। আমার মনে হয় তাদের স্পিনারদের বিপক্ষে খেলতে গেলে আমি কিছু শিখতে পারব। সেই শিক্ষাগুলো আমার ভবিষ্যতে কাজে দেবে।
উইকেট নিয়ে কী ভাবছেন?
আমার মনে হয় উইকেটটা একটু ধীর গতির হতে পারে। পরশু দিন (বুধবার) খেলার সময় দেখা যাবে কি উইকেট হয়। উইকেট এতো বুঝি না। না বুঝেই খেলার চেষ্টা করি, সেভাবেই চেষ্টা করব।
দলের মানসিকতা কেমন?
শেষ সিরিজটা আমরা ভাল ক্রিকেট খেলেছি। হয়তো শেষ টেস্ট ম্যাচটা আমরা খারাপ খেলেছি। ওয়ানডে সিরিজ আমরা হোয়াইটওয়াশ করেছি। টি-টোয়েন্টিও জিতেছিলাম। একটা সিরিজ ভাল হলে সবার আত্মবিশ্বাস ভালই থাকে। আমরা এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আছি। সবাই চেষ্টা করছে যার যার জায়গায় উন্নতি করার।
আপনাকে অধিনায়ক করা হলে আপনি ভারতের বিপক্ষে কী করবেন?
আমার কাছে মনে হয় জয় হলেই আমি খুশি।
গরম আবহাওয়া কোনো প্রভাব ফেলবে?
মাঝে মাঝে ক্রিকেট খেলতে গেলে কোন কোনো জায়গায় অতিরিক্ত ঠান্ডা কিংবা অতিরিক্ত গরমও পড়ে। এগুলো কন্ট্রোলের বাইরে। এটাকে কন্ট্রোল করার কোন মাধ্যম নেই। এই কারণে আমরা অনুশীলনের সময় অতিরিক্ত রানিং করছি। যা আমাদের মানসিক ভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করছে। একটা সময় গরমের কারণে মনোযোগ বিঘ্নত হতে পারে। এই কারণে আমরা রানিং করছি। এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি দেখি কি হয়।
