প্রতি মাসেই বাড়ছে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ, ভাঙছে আগের রেকর্ড। সম্প্রতি সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো হলেও বিক্রি কমেনি। আর তারই ফলস্বরূপ সঞ্চয়পত্রের বিক্রি সংশোধিত বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। চলতি অর্থবছরের দশ মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ১৪১ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে নির্ধারিত ২১ হাজার কোটি টাকার তুলনায় যা চার হাজার ১৪১ কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে নয় হাজার ৫৬ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল।
গত বৃহস্পতিবার সংশোধিত বাজেটে এ লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ২১ হাজার কোটি টাকা করার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আবদুল মুহিত। এর আগে গত ২৩ মে পাঁচ ধরনের সঞ্চয়পত্রে প্রায় দুই শতাংশ সুদ কমিয়ে ১১ শতাংশের আশেপাশে নির্ধারণ করা হয়েছে। অবশ্য কমিয়ে আনা সুদহারও বর্তমানে ব্যাংকের আমানতে সুদহারের তুলনায় অনেক বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা গেছে, গত এপ্রিলে ব্যাংক খাতের আমানতের গড় সুদহার ছিল সাত দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ। সুদহার কমানোর পর ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে নিট ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার
গত মাসে পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ২৬ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। সঞ্চয়পত্র সুদের হার কমানোর ঘোষণা দেয়ার সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, সুদের হার বেশি হওয়ায় সঞ্চয়পত্রের বিক্রি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছিল। এটা চলতে থাকলে এ খাতে বিনিয়োগ আরও বেড়ে যাবে। সরকারের ভবিষ্যত্ ঋণের বোঝাও বেড়ে যাবে। সে কারণেই আমরা এটাকে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর আগে আমরা সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বাড়িয়েছিলাম। সেটা আর রাখা সম্ভব হল না। সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো হয়েছে।
