কোকেন সন্দেহে আটক ১০৭ ড্রাম তেলে কিছুই পাওয়া যায়নি

আপডেট : ০৯ জুন ২০১৫, ০১:০৬

চট্টগ্রাম বন্দরে তরল কোকেন সন্দেহে আটক ভোজ্যতেল পরীক্ষা শেষে কিছুই পাওয়া যায়নি। বলিভিয়া থেকে সূর্যমুখী ভোজ্যতেলের আড়ালে তরল কোকেন আমদানি করা হয়েছে সন্দেহে গত শনিবার বন্দরে এক কন্টেইনারে ভর্তি ১০৭ ড্রাম তেল আটক করা হয়। পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জাবেদ পাটওয়ারীর তথ্যের ভিত্তিতে গত শনিবার শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ চট্টগ্রাম বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ডে কন্টেইনারটি সিলগালা করে।

 
গতকাল সোমবার গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ, কাস্টমস এবং মাদক দ্রব্যের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কন্টেইনারটি খোলা হয়। এরপর একে একে ১০৭টি ড্রামে আনা সূর্য্যমুখী ভোজ্যতেলের তাত্ক্ষণিক পরীক্ষা করা হয়। মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের প্রধান রসায়নবিদ দুলাল কৃষ্ণ সাহা নমুনা পরীক্ষা করে মাদক দ্রব্যের কোন আলামত পাননি। ১৮৫ কেজি ওজনের প্রতিটি ড্রামে আসা ক্রুড অয়েল আরো উন্নত পর্যায়ে পরীক্ষা করা হবে বলে শুল্ক গোয়েন্দার মহাপরিচালক ড. মঈনুল হক জানান।
 
এদিকে ঢাকা থেকে অতিরিক্ত আইজি জাবেদ পাটওয়ারীর তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ স্থানীয় যে প্রতিষ্ঠানের নামে পণ্যটি দেশে আসে তার মালিক ও কর্মকর্তাকে আটক করে। খাতুনগঞ্জের খান জাহান আলী নামের একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সন্দেহজনক এই ভোজ্য তেল আমদানি হয়েছে-এ তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ প্রতিষ্ঠানের মালিক নূর মোহাম্মদকে প্রথমে আটক করে। কিন্তু তিনি এ ব্যাপারে অবহিত নন জানালে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার সোহেলকে আটক করে পুলিশ। সোহেল জানায়, তার খালাতো বোনের স্বামী এক বন্ধুর মাধ্যমে বলিভিয়া থেকে ভোজ্যতেলসমূহ দেশে পাঠায়। ভোজ্যতেলসমূহ উরুগুয়ের মন্টিভিডিও পোর্ট থেকে কন্টেইনার ভর্তি করে পাঠানো হয়।
 

গত শনিবার বিশাল পরিমাণ তরল কোকেন সন্দেহে ভোজ্যতেলে ১০৭ ড্রাম আটক করার পর বন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। গতকাল ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের কন্টেইনার খুলে ড্রামগুলো নামানোর সময় পুলিশের অতিরিক্ত আইজি জাবেদ পাটওয়ারী, মাদক দ্রব্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বজলুর রহমান, শুল্ক গোয়েন্দার ডিজি ড. মঈনুল হক, সিএমপির কমিশনার জলিল মন্ডল, চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) জাফর আলম, পরিচালক (ট্রাফিক) সরওয়ার হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। চট্টগ্রাম বন্দরের ৪নং গেট সংলগ্ন ফায়ার সার্ভিস এলাকায় কন্টেইনার খোলা হয়।