মানুষের সাথে হাতির বৈরিতা নিরসনে এবং মহাসংকটাপন্ন এ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে শেরপুর জেলায় সমন্বিত কর্মসূচি শুরু হয়েছে। হাতির তাণ্ডব থেকে রক্ষার জন্য গৃহীত প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ ও আশাবাদ রয়েছে পাহাড়ি জনপদের মানুষের মনে।
হাতি ও মানুষের বৈরিতা নিরসন এবং সহ-অবস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শেরপুরের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ আইইউসিএন ও এইচইডিএস-এর সহযোগিতায় সমন্বিতভাবে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এ প্রকল্পের অধীনে শ্রীবরদী উপজেলার কর্ণঝোড়া ও ঝিনাইগাতী উপজেলার তাওয়াকুচা বনাঞ্চলে ভারত সীমান্ত ঘেঁষে বাংলাদেশ ভূখণ্ডের একশ’ হেক্টর জমিতে হাতির খাদ্য হিসেবে বাঁশ, কলাগাছসহ ১৮ প্রজাতির গাছপালা রোপণ করা হবে। যাতে খাদ্যের সন্ধানে হাতির দল সমতল ভূমিতে নেমে না আসে। হিউম্যান ইকোনমিক ডেভলপমেন্ট সোসাইটি (এইচডিইএস)-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী শেরপুর সীমান্ত অঞ্চলে যেসব হাতি বিচরণ করে এরা পরিযায়ী হাতি। এদের চলাচলের পথ রুদ্ধ হওয়ায় এবং খাদ্য ও আবাসস্থল কৃষিকাজের জন্য বেদখল হওয়ার কারণে এরা সমতলে নেমে আসে। বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক চারণভূমি ও বনাঞ্চল না থাকায় খাবারের সন্ধানে ফসলের মাঠে ও মজুত খাদ্যের সন্ধানে বাড়িঘরে হানা দেয়। সংস্থাটির মতে, শেরপুরের বনাঞ্চলে ১২০ থেকে ১৩০টি পরিযায়ী হাতি দেখা যায়। ২০১৪ সাল পর্যন্ত হাতির আক্রমণে ৩৩ জন মানুষ মারা গেছে এবং ৯টি হাতি প্রাণ হারিয়েছে।
