মানুষের সাথে হাতির বৈরিতা নিরসনে সমন্বিত কর্মসূচি

আপডেট : ১০ জুন ২০১৫, ০০:৪১

মানুষের সাথে হাতির বৈরিতা নিরসনে এবং মহাসংকটাপন্ন এ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে শেরপুর জেলায় সমন্বিত কর্মসূচি শুরু হয়েছে। হাতির তাণ্ডব থেকে রক্ষার জন্য গৃহীত প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ ও আশাবাদ রয়েছে পাহাড়ি জনপদের মানুষের মনে।

 
প্রতিবছর ফসল ঘরে তোলার সময় এলেই শেরপুরের শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় অঞ্চলের ৩১টি গ্রামের অধিবাসীদের ঘুম হারাম হয়ে যায়। হাতি আতংকে কাটে দিবস রজনী। এ সময় যুঁথবদ্ধ বুনোহাতির দল শস্যক্ষেত, সবিজক্ষেত, ফলের বাগানে হামলা চালিয়ে ফসল, ফল ও বৃক্ষের ক্ষতিসাধন করে। মজুত খাদ্যের সন্ধানে বাড়ি ঘরে আক্রমণ চালিয়ে ধংসস্তূপে পরিণত করে। হাতির তাণ্ডব রোধ করতে গিয়ে প্রতিবছর বহু নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত অঞ্চলের সবচেয়ে হাতি উপদ্রুত গ্রামগুলো হচ্ছে হাড়িয়াকোনা, কুমারবাড়ী, বাবলাকোনা, খৃস্টানপাড়া, ঝুলগাঁও, মেঘাদল, রাঙাজান, খাড়ামুড়া, গুরুচরণ, দুধনই, ছোট গজনী, বড় গজনী, বাঁকাকুড়া, গান্ধীগাঁও, হালচাটি, নওকুচি, নক্শী উত্তর, সন্ধ্যাকুড়া, রাংটিয়া, গোমড়া, হলদীগ্রাম, সমচ্চুড়া, কালাপানি, বটতলা, খলচন্দা, আন্ধারপাড়া, কাঁটাবাড়ি, নাকুগাঁও, কালাকুমা, পানিহাতা, চারালি, মায়াঘাষি ইত্যাদি।
 

হাতি ও মানুষের বৈরিতা নিরসন এবং সহ-অবস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শেরপুরের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ আইইউসিএন ও এইচইডিএস-এর সহযোগিতায় সমন্বিতভাবে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এ প্রকল্পের অধীনে শ্রীবরদী উপজেলার কর্ণঝোড়া ও ঝিনাইগাতী উপজেলার তাওয়াকুচা বনাঞ্চলে ভারত সীমান্ত ঘেঁষে বাংলাদেশ ভূখণ্ডের একশ’ হেক্টর জমিতে হাতির খাদ্য হিসেবে বাঁশ, কলাগাছসহ ১৮ প্রজাতির গাছপালা রোপণ করা হবে। যাতে খাদ্যের সন্ধানে হাতির দল সমতল ভূমিতে নেমে না আসে। হিউম্যান ইকোনমিক ডেভলপমেন্ট সোসাইটি (এইচডিইএস)-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী শেরপুর সীমান্ত অঞ্চলে যেসব হাতি বিচরণ করে এরা পরিযায়ী হাতি। এদের চলাচলের পথ রুদ্ধ হওয়ায় এবং খাদ্য ও আবাসস্থল কৃষিকাজের জন্য বেদখল হওয়ার কারণে এরা সমতলে নেমে আসে। বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক চারণভূমি ও বনাঞ্চল না থাকায় খাবারের সন্ধানে ফসলের মাঠে ও মজুত খাদ্যের সন্ধানে বাড়িঘরে হানা দেয়। সংস্থাটির মতে, শেরপুরের বনাঞ্চলে ১২০ থেকে ১৩০টি পরিযায়ী হাতি দেখা যায়। ২০১৪ সাল পর্যন্ত হাতির আক্রমণে ৩৩ জন মানুষ মারা গেছে এবং ৯টি হাতি প্রাণ হারিয়েছে।