যদিও প্রধান নির্বাচক থেকে সাধারণ মানুষ; সবারই ধারণা বাংলাদেশ এই টেস্টটা ভারতের বিপক্ষে না হারার জন্য খেলবে; মানে লক্ষ্য ড্র করা। কিন্তু গতকাল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বললেন, তারা জয়ের জন্যই খেলবেন। আর আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া টেস্টে দু’ দলের সম্ভাবনাই সমান দেখছেন তিনি—
আপনাদের লক্ষ্যটা কী থাকবে? জয়, নাকি ড্র?
সব সময় আমাদের চেষ্টা থাকে ভালো খেলার। এবারও সে রকমই লক্ষ্য। গত সিরিজের প্রথম ম্যাচটা ভালো খেললেও দ্বিতীয়টা হেরে গেছি। আমরা জয়ের জন্য খেলবো। পরিস্থিতি সে রকম না হলে আমরা ড্রয়ের কথা চিন্তা করবো।
এই টেস্টে কারা ফেবারিট?
ভারত শক্তিশালী দল। এরপরও এই সিরিজের সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি ধরা যায়। তাদের দলে খুব ভালো দু’জন স্পিনার আছে। আমাদের ব্যাটসম্যানরা ভালো খেললে দারুণ কিছু হবে বলে মনে করছি।
উইকেট কেমন দেখলেন?
কিউরেটরদের জন্য এই সময়ে প্রত্যাশিত উইকেট বানানো খুব কঠিন। আর উইকেট আমাদের জন্য সব সময় খুব হেল্পফুল হবে, ব্যাপারটা সে রকম না। আমরা আশা করি, কিন্তু সব সময় হয়তো হয় না। আমাদের দায়িত্ব ভালো খেলা। আমরা সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছি। এখানকার উইকেটটা একটু আলাদা। তবে এখানে আমরা কয়েকটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছি, বিসিএলের ওয়ানডেও খেলেছি। কিছুটা হলেও ধারণা আছে। গরমে আমাদের কষ্ট যতোটুকু হবে, ততোটুকু কষ্ট তাদেরও হবে। সুতরাং এটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করার কিছু নেই।
উইকেটে আলগা ঘাসটা দেখে কী মনে হলো?
টেস্টের উইকেটে এমন আলগা ঘাস দেখা যায় না। ওয়ানডে বা অন্য ফরম্যাটে দেখা যায়। এখানে যে ঘাস আছে, তা পাঁচ দিন থাকবে না, কিংবা কতোটা প্রভাব ফেলবে—এ বিষয়টা আমার জন্য নতুন। এখানকার উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য সুবিধার হওয়ার কথা। একইভাবে স্পিনারদেরও সহায়তা পাওয়ার কথা প্রথম দিন থেকেই।
উইকেটে নাকি আলগা ঘাস আছে। এটা কী পেস বোলারদের ওপর ভরসা বাড়ার লক্ষণ?
সে রকম না বিষয়টি। বিশ্বকাপেও আমাদের পেস আক্রমণ শক্তিশালী ছিলো। এরপর দেশে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজেও আমাদের পেসাররা ভালো করেছে। তবে এখানকার উইকেট একটু অন্য রকম। সঙ্গে এখন প্রচণ্ড গরম পড়ছে। ফলে পেসাররাই কী করতে পারবে, এখনও আমরা নিশ্চিত নই।
সে ক্ষেত্রে কী আজ তিন স্পিনার খেলতে পারে?
আমরা এখনো দল নিয়ে চিন্তা করিনি। সবাই মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত আছে। কিছু ইনজুরি সমস্যাও আছে। আমাদের স্কোয়াডে চারজন স্পিনার আছে। ভারতের লাইন আপ কেমন হতে পার, তা বুঝে আমরা সিদ্ধান্ত নিবো।
লিখনের খেলার সম্ভাবনা কতটুকু?
আমাদের সবাই মানসিক এবং শারীরিকভাবে খেলার জন্য প্রস্তুত। বাকীদের মতোই তারও ভালো সম্ভাবনা আছে।
ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টের কথা মনে আছে?
সর্বশেষ ওদের সাথে খেলার সময় দুটি ম্যাচই হেরেছিলাম আমরা। তারপরও ব্যক্তিগত কিছু ভালো পারফরম্যান্স ছিলো। সেটাও পাঁচ বছর আগের কথা। বর্তমান ভারতীয় দল স্বাভাবিকভাবেই শক্তিশালী। আমরাও অনেক উন্নতি করেছি। ব্যক্তিগতভাবে এবং দলগতভাবেও উন্নতি হয়েছে। আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং সব দিক থেকেই আমরা তাদের সাথে লড়তে পারবো।
বিরাট কোহলির ভূমিকা কিভাবে দেখছেন?
খুব বেশি টেস্ট ম্যাচ হয়তো বিরাট কোহলি অধিনায়কত্ব করেনি। হয়তো তার জন্য একটু চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে একটা ব্যাপার মনে রাখতে হবে, ও কিন্তু অধিনায়কত্ব করলেই আরো ভালো খেলে।
নয় বছর আগে শেন ওয়ার্নদের বিপক্ষে এখানে খেলেছে বাংলাদেশ। সেবার পারফরম্যান্স ভাল ছিল; এবার কি তেমন হতে পারে?
অবশ্যই সম্ভব, অসম্ভব আসলে কিছুই না। আমাদের ব্যাটসম্যানরা যেভাবে ফর্মে আছে। ভারতের দু’ জন ভাল স্পিনার আছে। তারপরও আমাদের ব্যাটসম্যানরা ভাল ফর্মে, ভাল টাচে আছে। ঠিকমত সবকিছু যদি করতে পারে তাহলে অসম্ভবের কিছু দেখি না।
এই মাঠের একমাত্র টেস্টের ইতিহাসটা প্রেরণা কি না।
যে গ্রাউন্ডে খেলা হবে তার আগের স্মৃতি ভাল থাকলে এটা ইতিবাচক প্রভাব থাকে। টেস্ট ক্রিকেটে আমাদের এটাই সমস্যা আমরা দুইটা দিন ভাল খেললে বাকি তিনটা দিন খারাপ খেলি। কিংবা দুইটা সেশন ভাল খেললে একটা সেশন খারাপ খেলি। সেখান থেকে দেখা যায় আমরা ম্যাচ থেকে ছিটকে যাই। এবার আমরা প্রতিটা সেশনই ভালো খেলতে চাই।
