৪ হাজারের বেশি শ্রমিক ছাঁটাই হয়নি

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৯, ২১:৪০

সাম্প্রতিক সময়ে পোশাক শিল্পে নতুন মজুরি কাঠামো নিয়ে অসন্তোষের কারণে ৪ হাজারের বেশি শ্রমিক ছাঁটাই হয়নি বলে উল্লেখ করেছেন তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান। গতকাল বিজিএমইএ ভবনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আল রবার্ট মিলারের সঙ্গে পোশাক শিল্পের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি (অর্থ) মোহাম্মদ নাছির ও পরিচালক মো. মুনির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, গণমাধ্যমের বরাতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানতে চেয়েছেন বিভিন্নভাবে ১১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে কিনা। এ বিষয়ে আমরা তাকে বলেছি, ১১ হাজার শ্রমিক ছাঁটায়ের কথা যেটা আলোচনায় এসেছে সেটা সঠিক না। কিন্তু মজুরি নিয়ে যারা খুব উচ্ছৃঙ্খল হয়েছিল তাদের কিছু সংখ্যক শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। আবার কিছু কারখানা বন্ধ হওয়ায় কিছু শ্রমিক চাকরি হারিয়েছে। তবে তাদের সংখ্যা ১১ হাজার বলা হলেও সংখ্যাটি কোনোভাবেই ৪ হাজারের বেশি না। তিনি বলেন, বিজিএমইএ’র নিজস্ব মনিটরিং সেল ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে সব খবর নেওয়া হয়েছে। ৪ হাজারের বেশি শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়নি। তবে ছাঁটাই হওয়া এসব কর্মীদের কাউকে আর কাজে পুনর্বহাল করা হয়নি।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি, কারখানা স্থাপন, জিএসপি সুবিধাসহ সমসাময়িক পোশাক শিল্পের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা (জিএসপি) নিয়ে আলোচনায় আমরা এ সুবিধা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছি। কারণ জিএসপি বিষয়ে ১৬টি শর্ত দিয়েছিল। এর মধ্যে ১৫টি বাস্তবায়ন করেছি। তাই এ সুবিধা ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, তুলা আমদানির বিষয়ে আমরা বলেছি। বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি তুলা আমদানি করে বাংলাদেশ। আমরা যদি যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করে প্রক্রিজাতকরণের পর তাদের দেশে আবার রপ্তানি করি এক্ষেত্রে তারা কি সুবিধা দেবে সেটা জানতে চেয়েছি। আলোচনা করে এ বিষয়ে তারা জানাবে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর অনেক কারখানার পরিবেশ উন্নতি হয়েছে। তবে গত দুই বছর এ বিষয়ে কোনো মূল্যায়ন করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা। এ বিষয়ে আমরা বলেছি, এখন আমাদের নতুন মন্ত্রী দায়িত্ব নিয়েছেন আশা করছি তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।