মেঘনায় ট্রলারডুবি: ৪ শিশুসহ নিহত ৬

আপডেট : ১২ জুন ২০১৫, ১১:৫৬
ভোলার মনপুরায় মেঘনা নদীতে শতাধিক যাত্রী নিয়ে ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে চার শিশুসহ ৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত অবস্থায় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন অনেকে। এছাড়া ভর্তি আছে ১১ জন। এখনও ১০/১৫ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তার পাশাপাশি স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
 
১১ই জুন বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় নহিম মাঝির ট্রলারটি শতাধিক যাত্রী নিয়ে মনপুরার কলাতলী থেকে ছেড়ে মনপুরার রামনেওয়াজের কাটাখাল ও ঢালচরের মাঝামাঝি স্থানে পৌঁছলে প্রচণ্ড স্রোতের কবলে পড়ে ট্রলারটির তলা ফেটে ডুবে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। 
 
ট্রলারে থাকা বেশির ভাগ যাত্রী তীরে উঠতে সক্ষম হলেও নারী ও শিশুরা মেঘনায় ডুবে যায়। ঘটনাস্থল থেকে শিশুসহ ৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এরা হলেন- আয়েশা বেগম (৭০), জেসমিন (২২), রুপা (৩), রনি (২), তানজু (৩) ও তাহমিনা (৩)। পরে ডুবে যাওয়াদের মধ্য থেকে অনেককে উদ্ধার করে মনপুরা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এদের মধ্যে বেশ কয়েক জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহত ১১ জন বর্তমানে মনপুরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ১০/১৫ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে জান্নাত, স্বপ্না, কামাল, মিশু, হাকিম ও ইউনুস মুন্সীর নাম পাওয়া গেছে নিখোঁজ বাকীদের এখনও নাম পাওয়া যায়নি। 
 
এদিকে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি স্থানীয়রা উদ্ধার করে নদীর পাড়ে নিয়ে আসে। তবে ডুবে যাওয়া ট্রলারের মধ্যে কোন লাশ পাওয়া যায়নি।নদীর পাড়ে স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠছে। তারা নদীর কূলে স্বজনদের লাশ খুঁজছেন।
 
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফরহাদ হাওলাদার বলেন, আমরা ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার খবর শোনা মাত্রই অন্য একটি ট্রলার নিয়ে লোকজনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। 
 
থানা পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্য উদ্ধার অভিযান চালানোর জন্য ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। তারা নিখোঁজদের উদ্ধারের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
 
মনপুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডা. অমিতাভ দে এবং ডা. শমীরণ কুমার বসাক বলেন, ৬টি লাশ মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। এছাড়া আহতদের আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। গুরুতর আহতদের মধ্যে ১১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তারা আশংকামুক্ত বলে জানান তারা।
 
মনপুরা থানার ওসি হানিফ শিকদার জানান, পরিচয় দিলে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করে দেয়া হবে বলে তিনি জানান। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত অন্য কোন লাশের খোঁজ পাওয়া যায়নি।