কুমিল্লার মুরাদনগরে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর অজান্তে এসএমএসের সহায়তায় প্রতারণার মাধ্যমে তাদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করতে আবেদন জমা দিয়েছে একটি কলেজের কর্তৃপক্ষ। এতে ভালো কলেজে ভর্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কলেজটির ক্যাম্পাসে গিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বাইরা স্কুল এন্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়ে এ ধরনের প্রতারণার ঘটনায় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
প্রতারিত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকসহ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বাইরা স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এবার ১৫১ জন পরীক্ষার্থী বিভিন্ন গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়। গত ২-৩ দিন যাবত্ এসব পরীক্ষার্থী মোবাইলে ও বিভিন্ন কম্পিউটার সেন্টারে অনলাইনে ভর্তির আবেদন করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার তারা ওই কলেজে গিয়ে জানতে পারে এরই মধ্যে তাদের ভর্তির আবেদন ওই কলেজ কর্তৃপক্ষই সম্পন্ন করে ফেলেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে পরীক্ষার্থীরা কলেজের অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে।
ভুক্তভোগীরা জানায়, বাইরা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামাল উদ্দিন আহাম্মেদ ও সভাপতি আলী ইমাম কাউছার সুকৌশলে স্কুলের অফিস সহকারী আরজু বেগমের মাধ্যমে অনলাইনে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর নাম ও রোল নাম্বার দিয়ে বাইরা কলেজকে প্রথম পছন্দ উল্লেখ করে এসএমএস পাঠিয়ে ভর্তির আবেদন করে। এতে তারা তাদের পছন্দের ভালো কোন কলেজে ভর্তি হতে পারবে না। প্রতারণার শিকার বাইরা স্কুলের জিপিএ-৫ অর্জনকারী ছাত্রী আয়েশা আক্তার ও রহিমা আক্তার জানায়, তারা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ বা দেবিদ্বার জোবেদা খাতুন মহিলা কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছিল। কিন্তু কলেজের অধ্যক্ষ ও সভাপতির যোগসাজশে তাদের এ স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়েছে। এ ঘটনায় গোলাম মোস্তফা, সফিকুল ইসলাম, খোরশেদ আলমসহ অন্য অভিভাবকরা কলেজের সভাপতি ও অধ্যক্ষের এ ধরনের প্রতারণার তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। এ সময় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা অধ্যক্ষ কামাল উদ্দিনের উপর হামলা করতে গেলে অন্য শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্যদের হস্তক্ষেপে তিনি রক্ষা পান।
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কায়সার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগ পেলে কলেজ কর্তৃপক্ষের এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পছন্দের কলেজে ভর্তি হতে আগের পাঠানো এসএমএস বাতিলপূর্বক নতুন করে এসএমএস পাঠানোর সুযোগ দেয়া হবে।
অনলাইনে আবেদন নিয়ে বিড়ম্বনা
বাকৃবি সংবাদদাতা জানান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে অবস্থিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে (কে.বি. কলেজ) ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে বি.কে.বি. কলেজের (বলাশপুর, কেওয়াটখালী, ভাটিকেশর কলেজে) সংক্ষিপ্ত নামের সাথে ‘কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ’র (কে.বি. কলেজ) সংক্ষিপ্ত নাম মিলে যাওয়ায় ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছে কলেজটির ম্যানেজিং কমিটি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কলেজের অধ্যক্ষ ড. আতাউর রহমান।