বৃষ্টিতে ভাসলো ক্রিকেট

আপডেট : ১২ জুন ২০১৫, ০১:৪৯

এক পেসার নিয়ে বাংলাদেশ দলের খেলতে নামার বিতর্ককে ছাপিয়ে গেল বৃষ্টি। ফতুল্লা টেস্টের উদ্বোধনী দিনে বৃষ্টির বাগড়ার মধ্যেও ভারতের দুই ওপেনার যতটুকু সুযোগ পান তাতে ইচ্ছে মতো রান তুলেছিলেন। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনে বৃষ্টি মাঠে গড়াতে দেয়নি একটি বলও। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে আগামী তিন দিনও সম্ভাবনা আছে ভারী বৃষ্টিপাতের। ফলে ভারতের বিরুদ্ধে চলতি সিরিজের একমাত্র টেস্টটিকে বাংলাদেশ কোচ চন্দিকা হাতুরুসিংহের কাঙ্ক্ষিত ‘জয়ের জন্য লড়াইয়ের’ সুযোগ থাকছে না। বরং টেস্টটি দৃশ্যতই এগোচ্ছে ড্র’র পথে।

 
বাংলাদেশের ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা সফর শুরুর আগে ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেয়া সাক্ষাত্কারে বৃষ্টির বাধার আশঙ্কা করেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন বৃষ্টি দূরে থাকবে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দেয়া সম্ভব নয় কারণ বর্ষাকাল এসে পড়েছে।’
 
মাশরাফির দুর্ভাবনা সফরের শুরুতেই সত্যি প্রমাণিত হলো। প্রথম দিনের ৯০ ওভারের মধ্যে খেলা হয়েছিল মাত্র ৫৬ ওভার। কাল সকাল থেকে ভারী বৃষ্টিতে মাঠ খেলার অনুপযুক্ত থাকায় আম্পায়াররা দুপুরেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন দিনের খেলা।
 
দুই দিনের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলি স্টেডিয়ামে আজ শুক্রবার তৃতীয় দিনের খেলা শুরু হবে নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা আগে, সকাল সাড়ে নয়টায়। কিন্তু আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে গতকাল রাত কিংবা আজ সকালে আবারো নামতে পারে বৃষ্টি।
 
ভারত দুই ওপেনার শিখর ধাওয়ানের ওয়ানডে স্টাইলে করা ১৫০ এবং মুরালি বিজয়ের ৮৯ রানে ভর করে প্রথম দিন শেষে বিনা উইকেটে ২৩৯ রান তুলেছিল। প্রতিপক্ষের রানের পাহাড়ে আরোহণের আশঙ্কা থাকলেও দিন শেষে আত্মবিশ্বাসী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহে। এই শ্রীলঙ্কান বলেছিলেন,‘আমরা এখনও জিততেই চাই। আমরা জয়ের জন্যই খেলছি।’ কিন্তু বৃষ্টিতে কাল দিনের পুরোটা ভেসে যাওয়ায় হাতুরুসিংহের অভিপ্রায়ের সত্যতা না মেলার সম্ভাবনাই বেশি। যদি না স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা অতিরিক্ত খারাপ কোনো কিছু না করে বসেন।
 
এই ম্যাচ ড্র হলে বাংলাদেশের যতটুকু লাভ হবে তার চেয়ে ভারতের ক্ষতি হবে। টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে নয় নম্বরে থাকা মুশফিকুর রহীমের দলের বর্তমান রেটিং পয়েন্ট ৩৯। ড্র হলে সেটা বেড়ে দাঁড়াবে ৪১.২১। কিন্তু অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে না তাতে। নিচে রইবে কেবল সেই জিম্বাবুয়েই। অন্যদিকে, তিন নম্বরে থাকা ভারত এক ধাপ নিচে নেমে যাবে চতুর্থ স্থানে। ফলে বৃষ্টির চিন্তায় মুশফিকের চেয়ে সফরকারী অধিনায়ক বিরাট কোহলিই বোধ হয় বেশি আচ্ছন্ন।
 
গতকাল সকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে ফতুল্লায় বৃষ্টির আধিপত্য বজায় ছিলো প্রকটভাবে। তাই কভার দিয়ে উইকেট ঢেকে রাখা হয়। তবে মাঠের চারপাশে জমে ছিল পানি। অবশেষে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে বৃষ্টি কমলে মাঠ পর্যবেক্ষণে নামেন ম্যাচের দুই আম্পায়ার। দীর্ঘক্ষণ মাঠ পর্যবেক্ষণ করার পর দুপুর ১.৪০ মিনিটে দ্বিতীয় দিনের খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন দুই আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা ও নাইজেল লং। এর আগে অবশ্য স্টেডিয়ামের কিউরেটর বেলাল জানিয়েছিলেন, বৃষ্টি থেমে যাবার দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে মাঠ খেলার উপযোগী করে তোলা সম্ভব।
 
উপর্যুপরি বৃষ্টির কারণে ক্রিকেটামোদীরা জানতে চাইছেন কেন এ সময়ে সিরিজটি আয়োজন? বিশেষ করে এই অঞ্চলে জুন-জুলাই মাস মূলত বৃষ্টির প্রধান মৌসুম হিসাবেই চিহ্নিত। জুন মাসে এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে কোনো টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশে অতীতে অনুষ্ঠিত টেস্টগুলোর সময় খেয়াল করলে আরো যৌক্তিক মনে হবে প্রশ্নটি। এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের একটিসহ বাংলাদেশে আয়োজিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজের মোট ৫০ টেস্টের কোনোটাই খেলা হয়নি জুন মাসে। এমনকি বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে জুলাই-আগস্ট-সেপ্টেম্বর, এই তিন মাসেও খেলা হয়নি কোনো টেস্ট।
 

ভারতের বিরুদ্ধে আগের সাতটি টেস্ট খেলা হয়েছে যথাক্রমে নভেম্বর (২০০০), ডিসেম্বর (২০০৪-০৫), মে (২০০৭) এবং জানুুয়ারি (২০১০) মাসে। আগেই জানানো হয়েছিল ভারতের ব্যস্ত সূচির কারণে এ সময়টায় সিরিজটি আয়োজিত হচ্ছে।