‘মানুষ, বৃক্ষের মতো নত হও, হও সবুজ’— এই আহ্বানই ছিল তার জন্ম উত্সবের নিমন্ত্রণপত্রে। যে ব্যক্তি তার ধ্যানে জ্ঞানে প্রজ্ঞায় বৃক্ষের প্রতি ব্রত প্রকাশ করেছেন তাকে ‘প্রকৃতির পুরুষ’ আখ্যা দিয়েছেন জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে আসা বিশিষ্টজনেরা। গতকাল ১২ জুন ছিল দেশবরেণ্য নিসর্গবিদ অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মার ৮৫তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান মিলনায়তনে এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তরু পল্লব আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা বলেন, দ্বিজেন শর্মা তার দীর্ঘ ৮৫ বছর জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন বৃক্ষরাজির সাথে। আমাদের করেছেন বৃক্ষের প্রতি সচেতন। বৃক্ষের উপকারিতার কথা জানিয়ে তিনি বৃক্ষ নিধন বন্ধ করে বাসযোগ্য করতে চেয়েছেন এই নগরীকে। তাকে প্রকৃতি রক্ষার লড়াকু সৈনিকের উপাধি দিয়ে তার দীর্ঘায়ু কামনা করেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লেখক ড. হায়াত্ মামুদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, ইমেরিটাস অধ্যাপক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় আইনুন নিশাত, কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ আইইউসিএন ড. ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আলী যাকের, লেখক মফিদুল হক, পাখি বিশারদ ইনাম-আল হক। অনুষ্ঠানের শুরুতে তার সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করা হয়। জানানো হয় ২০১৫ সালে ২১ পদকসহ তিনি তার লেখার জন্য অর্জন করেন বাংলা একাডেমি, শিশু একাডেমি সম্মাননাসহ বহু সম্মাননা। পরে দ্বিজেন শর্মা ও তার ৫৫ বছরের সঙ্গী স্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এরপর তাকে নিয়ে লিখিত স্মারকগ্রন্থ ‘প্রকৃতির পুত্র দ্বিজেন শর্মা’ ও তার প্রথম গ্রন্থ ‘শ্যমলী নির্সগ’-এর তৃতীয় সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অভিব্যক্তি ব্যক্ত করতে গিয়ে অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, প্রকৃতি আমাদের জীবনধারণের ধরন ঠিক করে দেয়। পাহাড়ে বাস করলে আমরা কেমন জীবনযাপন করব, সমতলের মানুষ কীভাবে থাকবে আর বনের মানুষের জীবনই বা কী হবে, তা প্রকৃতিই নির্ধারণ করে। তাই প্রকৃতিকে উপেক্ষা করলে স্বাভাবিক জীবন উপেক্ষিত হবে। এই জীবন যেন উপেক্ষিত না হয় সেই সচেতনতা সৃষ্টিরই প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন দ্বিজেন শর্মা।
শামসুজ্জামান খান বলেন, তিনি আমাদের অনেক অজ্ঞতা দূর করেছেন।
আলী যাকের বলেন, তার সম্পর্কে বলতে হলেও আমাদের বিশাল পড়াশোনা থাকা দরকার।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানায়। অনুষ্ঠানে কথা প্রকাশনা ও ঘুড়ি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে তাকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পরে তার পোর্ট্রেট উপহার দেয়া হয় তাকে।
অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মার জন্মদিন উপলক্ষে সকালে পাবলিক লাইব্রেরিতে এক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও প্রকৃতিমেলার আয়োজন করা হয়।