প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী ওরা

আপডেট : ১৩ জুন ২০১৫, ০০:৪২

বিয়ে কি জিনিস বুঝে ওঠার আগেই বাবা-মা জোর করে জোহরার বিয়ে দিয়ে দেয়। বিয়ের দুই বছরের মাথায় যখন কন্যা সন্তান জন্ম দিল তখন স্বামী তালাক দিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। কোলের সন্তানকে নিয়ে তার ঠিকানা হয় বাবার বাড়ি। পরে একটি এনজিওর বিউটি পার্লারে প্রশিক্ষণ নেন তিনি। ধীরে ধীরে পাল্টে যায় জোহরার জীবন। এখন আর কারো উপর নির্ভর করতে হয় না তাকে। পরিবারে সচ্ছলতা আনার পাশাপাশি তিন জন নারীরও কর্মসংস্থান হয়েছে জোহরার বিউটি পার্লারে। জোহরার এখন মাসিক আয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। এই টাকায় সন্তান নিয়ে সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে দিন কাটছে জোহরার।

 
রূপগঞ্জের সদর ইউনিয়নের কেরাটিয়া গ্রামের শিলা রানী প্রশিক্ষণ নিয়ে চটের ব্যাগ তৈরি করে একসময় বাজারে দিতে গিয়ে শুনতে হয়েছে এলাকাবাসীর মন্দ কথা। তারপরও দমে যাননি শিলা রানী। সেই শিলা এখন অনেকটাই স্বাবলম্বী। আড়াইহাজারের হাইজাদী ইউনিয়নের সিংহদী গ্রামের জমিলা আক্তার সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে ফিরিয়েছেন সংসারের সচ্ছলতা। একইভাবে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়েছেন সোনারগাঁওয়ের সনকান্দা পরমেশ্বরদী গ্রামের ডলি। নারায়ণগঞ্জে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক কর্মশালায় তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প শুনে উপস্থিত সবাই অভিভূত হয়ে পড়ে। কর্মশালাতে অনেক নারী কিভাবে স্বাবলম্বী হলেন তার বর্ণনা দেন। রূপগঞ্জের সদর ইউনিয়নের বাগবেড় এলাকার জালালউদ্দিনের মেয়ে জোহরা জানান, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে একটি এনজিও থেকে বিউটিফিকেশনের ট্রেনিং নেই। এরপর প্রথমে বাড়িতে বসেই বিভিন্ন বিয়ের প্রোগ্রামে কাজ করতে থাকি। এলাকার কেউ সাপোর্ট করেনি। শুরুর দিকেতো আমার বাবাই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
 
কিভাবে বাবাকে ম্যানেজ করলেন এমন প্রশ্নে জোহরা বলেন, বাবাকে নিয়ে ট্রেনিং করেছি। এরপর থেকে আমার পরিবারের আমার প্রতি পজেটিভ ধারণা এসেছে। প্রথমে ৪ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করি। নিজেদের বাড়িতেই একটি দোকান তুলে জয়িতা বিউটি পার্লার করেছি। এখন আমার বিউটি পার্লারে আরো ৩ নারী কাজ করছে। পুঁজি হয়েছে দেড় লক্ষাধিক টাকা। প্রতি মাসে ১৭-২২ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। এখন আর বাবার উপর নির্ভর করতে হয় না।
 
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি নারীদের ১৩টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে টেইলরিং ও প্যাকেজিং। এছাড়া রয়েছে বিউটিফিকেশন, মোমবাতি তৈরি, এমব্রয়ডারি-ব্লকবাটিক, ক্ষুদ্র শিল্প, হ্যান্ডিক্র্যাফটস, পোলট্রি, মাশরুম চাষাবাদ, নার্সারি, ফুড প্রসেসিং, জুট ও ননওভেন নেট ব্যাগ তৈরির প্রশিক্ষণ। তিনটি উপজেলায় ১ হাজার ৪৩৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে ৭১২ জন ব্যবসা শুরু করেছেন। আড়াইহাজারের জমিলা জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এরপর তিনি সেলাই মেশিন ক্রয় করে প্রতিবেশীদের জামা-কাপড় সেলাই করে মাসে ৫-৬ হাজার টাকা আয় করেন। তার ইচ্ছে একটি টেইলারিং শপ দেয়ার।
 

ডলি জানান, প্রশিক্ষণ নেয়ার পর বারদী বাজারের পাশে ঘরের ভেতর ৩টি সেলাই মেশিন বসিয়ে সেলাইয়ের কাজ করছেন তিনি। তার সঙ্গে প্রশিক্ষণ নেয়া আরো দুই জন কাজ করছে। মাসে অন্তত ১০ হাজার টাকা উপার্জন করছেন তিনি।