লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌরসভার প্রধান প্রধান সড়কে খানাখন্দ তৈরি হওয়ায় পৌরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শহরের বেশকিছু সড়কে খানাখন্দের কারণে যানবাহন এমনকি জনচলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে কাদা-পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সড়কগুলো সংস্কার না হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রামগঞ্জ পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে বাইপাস সড়কটিতে খানাখন্দের কারণে যানবাহন ও সাধারণের চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া, রামগঞ্জ হাসপাতাল সড়ক, রামগঞ্জ থানা ও সাব রেজিস্ট্রি অফিস সড়ক, রামগঞ্জ সোনাপুর বাইপাস সড়ক, রামগঞ্জ হাজীগঞ্জ সড়ক, সোনাপুর থেকে চিতুসী চৌরাস্তা সড়ক, রামগঞ্জ সরকারি কলেজ ও রামগঞ্জ রাব্বানীয়া কামিলা মাদ্রাসা সড়ক, রামগঞ্জ ওয়াপদা সড়ক, রামগঞ্জ মাছ বাজার সড়কও বেহাল হয়ে পড়েছে।
বাইপাস সড়কের ব্যবসায়ী আবুল কালাম ও কয়েকজন অভিভাবকসহ শিক্ষার্থী জানান, সড়কটির দুপাশে ১০/১২টি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক এবং স্কুল-কলেজ রয়েছে। বিশালাকৃতির গর্তের কারণে জরুরি প্রয়োজনে মুমূর্ষু রোগীদের স্থানান্তরে চরম সমস্যায় পড়তে হয়। এ সড়ক দিয়ে যেতে হয় রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সেও। বর্তমানে এ সড়কের অবস্থা নাজুক। রামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় উপজেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হলেও বিদ্যালয়ের সামনের সড়কটি দিয়ে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীদের হেঁটে যেতে জামা-কাপড় নষ্ট হচ্ছে।
একজন সরকারি চাকরিজীবী জানান, একটা প্রথম শ্রেণির পৌরসভার রাস্তাঘাট এতটা নাজুক হতে পারে, তা ভাবাই যায় না। এমন বেহাল যে, সামান্য বৃষ্টি হলেই লোকজনকে হাঁটু পর্যন্ত প্যান্ট-কাপড় ওপরে উঠিয়ে চলতে হয়। বালুয়া চৌমুহনী থেকে কাশেম মাস্টার সড়ক, হাজি বাড়ির সড়ক, জামতলী বাজার সড়কগুলোও ভেঙেচুরে একাকার।
বীমাকর্মী রহমত উল্যা পাটোয়ারী বলেন, ‘রামগঞ্জ কাঁচাবাজারের প্রধান সড়কটি এতই বেহাল যে, সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান পানি জমে যায়। তখন দুর্ভোগের সীমা থাকে না।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর জানান, জনগণের পক্ষ থেকে সড়কগুলো মেরামতের জন্য মেয়রের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে রামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আবুল খায়ের পাটওয়ারী বলেন, ‘কয়েকটা রাস্তার টেন্ডার হয়েছে এবং আরো কিছু রাস্তা টেন্ডারাধীন আছে। আশা করি, এই বর্ষার আগে সকল রাস্তার সংস্কার কাজ সম্পন্ন হবে।’
