বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর আগুনমুখা পয়েন্টে ফেরি চালুর দাবি

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৯, ২২:০০

নদী আর সাগর বেষ্টিত পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা একমাত্র নৌপথ। এখানকার দেড় লক্ষাধিক মানুষের ভরসা নৌযান। তবে দুর্যোগ মৌসুমে ভয়াল নদী দিয়ে এ নৌযানে পারাপার হতে জীবনের ঝুঁকি নিতে হয়। তবুও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন নানা ভোগান্তির মধ্যেই এসব নৌযানে  হাজারো মানুষ পারাপার হয়।

উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে উপজেলার কোড়ালিয়া থেকে গলাচিপার পানপট্টি নৌরুটের বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর আগুনমুখা পয়েন্টে একটি ফেরি সেবা চালু করা হলে  উপজেলাবাসীর যোগাযোগ সমস্যা লাঘব হবে। কেবল ফেরি চালু হলেই পানপট্টি থেকে সড়কপথে অতিসহজেই গাড়িযোগে দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে এ উপজেলায় আসা-যাওয়া সম্ভব।

জেলা শহর পটুয়াখালী থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উপজেলাটি। ২০১২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে এ উপজেলা আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে জেগে থাকা পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময়ী এ উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন একটি থেকে আরেকটি বিচ্ছিন্ন। এর উত্তরে বুড়াগৌরাঙ্গ, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে বুড়াগৌরাঙ্গ আর পশ্চিমে রামনাবাদ নদী। উপজেলার বাইরে বের হলেই ভয়াল আগুনমুখা পয়েন্ট পাড়ি দিতে হয়। এর কোনো বিকল্প নেই। এখান থেকে জেলা সদরে যেতে সময় লাগে ৪-৫ ঘণ্টা।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছরে ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এ সাত মাস বিপজ্জনক মৌসুম। তখন নদ-নদী উত্তাল থাকায় জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা সদর থেকে বাইরে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। উপজেলার কোড়ালিয়া থেকে গলাচিপার পানপট্টি নৌরুটের আগুনমুখা পয়েন্ট পাড়ি দিয়ে রাঙ্গাবালীবাসীকে দেশের যে কোনো প্রান্তে যেতে হয়। কিন্তু দুর্যোগ মৌসুমে নদ-নদী উত্তাল থাকায় নয়নাভিরাম এ উপজেলা পর্যটন স্পটের জন্য আকর্ষণীয় হলেও ঝুঁকি নিয়ে পর্যটকরা এখানে আসেন না।

জানা গেছে, কোড়ালিয়া-পানপট্টি নৌরুটে লঞ্চ কিংবা খেয়া পারাপারে নির্ধারিত কোনো সময়সীমা নেই। যার কারণে প্রতিদিন অন্তত দেড় হাজার যাত্রীর ভোগান্তি পোহাতে হয়। নির্দিষ্ট সময় ছাড়া বিশেষ প্রয়োজন হলে গভীর রাতে কিংবা অন্যকোনো সময়ে উপজেলা থেকে বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ছাড়া কোড়ালিয়া থেকে প্রতিদিন সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে একটি লঞ্চ ছেড়ে যায়। একদিন একরাত পরে ওই লঞ্চ ঢাকায় পৌঁছায় পরদিন সকালে। এতে যাত্রীদের অনেক ভোগান্তি হয়।

উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান মিন্টু বলেন, ‘উপজেলায় এখনও সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গড়ে ওঠেনি। তাই যথাসময়ে চিকিত্সকের কাছে না পৌঁছাতে পেরে বহু মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যু ঘটে পথেই। যোগাযোগ সমস্যার কারণে এ উপজেলার চিকিত্সা ব্যবস্থা এখনও নিয়তির ওপর নির্ভরশীল।’

উপজেলার বাহেরচর বন্দরের বাসিন্দা মশিউর রহমান শিমুল বলেন, ‘তরমুজের জন্য এ উপজেলাটি বিখ্যাত। কিন্তু নৌপথে তরমুজ পরিবহন করতে হয়। এ কারণে সঠিক সময়ে বাজার ধরতে না পারলে নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয় কৃষক। তাই অবহেলিত এই জনপদের মানুষের কথা চিন্তা করে কোড়ালিয়া-পানপট্টি নৌরুটে একটি ফেরি চালু করলে যোগাযোগ সমস্যার সমাধান হবে। সরাসরি রাঙ্গাবালীতে গাড়ি আসা-যাওয়া করতে পারবেন। এতে অর্থনৈতিকভাবেও উপজেলাটি এগিয়ে যাবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বেষ্টিত রাঙ্গাবালীর উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা যোগাযোগ। স্থল পথে গাড়ি পারাপারের ব্যবস্থা থাকলে অনেক ভ্রমণপিপাসু দেশি-বিদেশি পর্যটক এখানকার দর্শনীয় স্থানে আসার ব্যাপারে আগ্রহী হবে। শুধু পর্যটকদের জন্য নয়, এ উপজেলার জীবনমান উন্নয়নের জন্য এখানে ফেরি খুব জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন। আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেছি। তিনি আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন। আমি এই সপ্তাহেই বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনার জন্য লিখবো।’