বাড়িতে ঢুকে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ, পরে হত্যা

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৫, ০১:৩২

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বাড়িতে ঢুকে গণধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে এক স্কুলছাত্রীকে। গতকাল রবিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বোয়ালমারী গ্রামে এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত আর্জিনা খাতুন গ্রামের মৃত আব্দুল হাই আকন্দের কন্যা। সে স্থানীয় স্কুল থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে। এদিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় হার্টঅ্যাটাকে মারা গেছেন আইয়ুব আলী (২২) নামের এক ‘ঘাতক’। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আরো দু’জনকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। রৌমারী থানার ওসি সোহরাব হোসেন জানান, পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠিয়েছে। তাদের ধারণা পরিকল্পিতভাবে ৩ বখাটে ওই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে নাসিরউদ্দিন (২২) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত আইয়ুব প্রায়ই আর্জিনাকে উত্ত্যক্ত করতো। ঘটনার দিন আর্জিনা ছাড়া বাড়িতে কেউ ছিল না। সেই সুযোগে ‘বখাটে’ আইয়ুব তার বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে বাড়ির রান্নাঘরে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে আর্জিনাকে জাপটে ধরে রান্নাঘরেই প্রথমে ধর্ষণ এবং পরে গলা কেটে হত্যা করে। পরে পালিয়ে যাওয়ার সময় সে মারা যায়।
 
গ্রামবাসী সূত্র জানায়, আইয়ুব আলী একই উপজেলার চেংটাপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল বাতেনের পুত্র। সে জোর করেই আর্জিনা খাতুনের সঙ্গে প্রেম করতে চেয়েছিল। কিন্তু আর্জিনার অন্য স্থানে বিয়ের তারিখ ঠিক হওয়ায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। আর এ কারণে বন্ধুদের নিয়ে গণধর্ষণের পর ওই স্কুলছাত্রীকে হত্যা করেছে আইয়ুব। নিহত আর্জিনার মা সাজেদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ওই আইয়ুব আলী মেলা দিন থিকা আমার মাইয়ারে বিরক্ত করে আসছিল। এ কারণে মাইয়ার বিয়া দিবার চাইছিলাম। কিন্তু শয়তানরা তাকে বাঁচতে দিল না। আমি খুনিদের ফাঁসি চাই। যাতে আমার মাইয়ার আত্মা শান্তি পায়।’
 

রৌমারী থানার ওসি সোহরাব হোসেন আরও জানান, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ৩ জন জড়িত ছিল। তবে গণধর্ষণ হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা ছাড়া বলা যাবে না। তবে যারা ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের ছাড় দেয়া হবে না। আইয়ুব আলীর মৃত্যু প্রসঙ্গে তিনি জানান, হত্যা করার পরে ভয়ে তার মৃত্যু ঘটেছে বলে আমরা ধারণা করছি ।