পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন

আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী মাঠে নেই বিএনপি

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৯, ২২:০২

পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রতীক বিতরণের পর বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা সকলেই পোস্টার টাঙানো, মাইকিং ও পাড়া-মহল্লায় গিয়ে কুশল বিনিময় ও ভোট প্রার্থনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবার চেয়ারম্যান পদে ছয়জন প্রার্থী ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন: মোঃ আখতারুল ইসলাম (নৌকা), গীতি গমন চন্দ্র রায় (মশাল), সুকোমল বিশ্বাস (হাতুড়ি), মোঃ আলমগীর কবির (আম), মোঃ ইসাহাক আলী (আনারস) ও রাজেন্দ্র নাথ রায় (মোটরসাইকেল) মার্কা নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী রয়েছেন- ইত্তেসাম-উল-হক মীম (তালা), হাফেজ নুরুজ্জামান (বৈদ্যুতিক বাল্ব), সুকুমার রায় (চশমা) ও আশরাফ আলী বাদশা (টিউবওয়েল) প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তবে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভারতী রানী রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এদিকে প্রতীক বরাদ্দের পর পরই বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে প্রার্থীরা প্রতীক ছাপিয়ে পোস্টার টাঙানো, হ্যান্ডবিল বিলি ও মাইকযোগে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় গিয়ে প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকরা ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করছেন। তবে এবারে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এমনকি মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি (এরশাদ) দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন না দেওয়ায় এসব দলের প্রতীক নির্বাচনী মাঠে নেই।

অন্য যেসব প্রার্থী দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করছেন তারা সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগকে মোকাবেলা করার মতো আদৌ শক্তিশালী না হওয়ায় নৌকার প্রার্থী আপাত দৃষ্টিতে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। তবে অতীতের উপজেলা নির্বাচনে ১৪ দলের শরিকরা আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে অন্ধভাবে সমর্থন জানালেও এবার ওয়ার্কার্স পার্টি সুকোমল বিশ্বাসকে, জাসদ (ইনু) গীতিগমন চন্দ্র রায়কে ও এনপিপি আলমগীর কবিরকে তাদের নিজস্ব প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে।

এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার রাজেন্দ্র নাথ রায় দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান। এসব প্রার্থী এবার নৌকার ভোট কাটবে বলে হোটেল রেস্তোরাঁ, টি স্টল ও রাস্তা ঘাটে আলোচনা চলছে।

এদিকে, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ ইসাহাক আলী উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত থাকা সত্ত্বেও দলীয় প্রতীক লাঙ্গল ছেড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা জাতীয় পার্টির ১৫ ফেব্রুয়ারির বর্ধিত সভায় তাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার এজাজত প্রদান করা হয়। এ সভায় জাতীয় ছাত্র সমাজের সরকারি কলেজ শাখা সভাপতি সবুজ আলীসহ কয়েকজন বক্তা জাতীয় পার্টির উপজেলা সভাপতির লাঙ্গল প্রতীক বর্জনের বিপক্ষে অবস্থান নিলেও বিষয়টিকে জাতীয় পার্টি রাজনৈতিক কৌশল বলে প্রচার করছে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসাহাক আলীর পক্ষে “আওয়ামী লীগ ঠেকাও” জোয়ার সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী আখতারুল ইসলাম (নৌকা) এর সঙ্গে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসাহাক আলী (আনারস)।