বাড়তি ক্ষতিপূরণ :লাইন নির্মাণে বিপাকে ডিপিডিসি

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৯, ২২:১৩

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এলাকায় রাস্তা খননে ক্ষতিপূরণের হার বেড়ে গেছে। রাস্তা খনন ক্ষতিপূরণ, মেরামত এবং জামানত ফি বৃদ্ধির ফলে এ বাবদ বিদ্যুত্ বিতরণকারী সংস্থা ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) সঞ্চালন-বিতরণ লাইন নির্মাণ ব্যয় গত বছরের চেয়ে এ বছর তিন থেকে চার গুণ বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে, ইতোমধ্যে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তা সমন্বয় করতে বিপাকে পড়েছে ডিপিডিসি। ব্যয় বৃদ্ধির কারণে “ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক ক্যাবল স্থাপন” প্রকল্পটির বাস্তবায়নও পিছিয়ে যাচ্ছে।  কোনো এলাকায় ইউটিলিটি লাইন সংস্কার, পরিবর্তন বা সম্প্রসারণসহ অন্যান্য কাজে রাস্তা কাটতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সিটি করপোরেশন থেকে অনুমতি নিতে হয়। যে পরিমাণ সড়ক কাটা হবে তা মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পরিশোধ করার শর্তে সিটি করপোরেশন অনুমতি দেয়।

ডিপিডিসি ও ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, গত বছর পর্যন্ত ভূগর্ভে বিদ্যুত্ বিতরণ লাইন স্থাপনের জন্য বিটুমিনে তৈরি রাস্তার প্রতি মিটারের বিপরীতে ৪ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং কনক্রিটের (আরসিসি) প্রতি মিটারের জন্য ৫ হাজার ৮২০ টাকা ক্ষতিপূরণ ফি নির্ধারিত ছিল; কিন্তু চলতি বছর রাস্তা কাটার ক্ষতিপূরণ আগের চেয়ে ৪৩ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিটুমিনের তৈরি রাস্তায় আগের চেয়ে ২ হাজার ৯১৮ টাকা বাড়িয়ে এখন ৭ হাজার ৮০১ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে কনক্রিটের রাস্তা খননে ক্ষতিপূরণ বেড়েছে ২ হাজার ৪৯৭ টাকা। এটি আগের চেয়ে ৪৩ শতাংশ বেশি। রাস্তা খননবাবদ ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন করে এসব কাজের জন্য ১৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করা হয়েছে।

ডিপিডিসি সূত্র জানায়, গত বছর পর্যন্ত বনশ্রী ৩৩/১১ কেভি উপ-কেন্দ্রের সোর্স লাইন নির্মাণের জন্য ২ হাজার ২২০ মিটার রাস্তা খননের বিপরীতে ক্ষতিপূরণ ছিল ১ কোটি ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা; কিন্তু নতুন ডিমান্ড নোটে একই পরিমাণ রাস্তা খননের বিপরীতে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকায়।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং ফ্রান্সের উন্নয়ন ব্যাংকের (এএফডি) যৌথ অর্থায়নে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে ভূগর্ভস্থ ক্যাবল স্থাপন এবং সাব-স্টেশন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে ডিপিডিসি। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জে চারটি সাব-স্টেশন নির্মাণ শেষে চালু করা হয়েছে; কিন্তু সিটি করপোরেশনের অনুমতি প্রাপ্তিসহ নানা জটিলতায় এখন পর্যন্ত ঢাকার মুগদা, বনশ্রী, রেলওয়ে কলোনি ও চানখারপুল এলাকার সাব-স্টেশনের কাজ শেষ করা যায়নি। ডিপিডিসি সূত্রে জানা যায়, ১ থেকে দেড় মিটার প্রস্থে রাস্তা খনন করলেই ভূগর্ভে তিন ফেইজের ক্যাবল স্থাপন করা যায়। খননকৃত অংশের গভীরতাও দেড় থেকে দুই মিটারের মধ্যেই রাখা হয়; কিন্তু সিটি করপোরেশন এখন রাস্তার এক পাশ থেকে অন্যপাশ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ ও মেরামত ব্যয় ধরে ক্ষতিপূরণের ডিমান্ড নোট দিচ্ছে। ফলে এক থেকে দেড় মিটার খনন করলেও রাস্তাভেদে কখনো সাড়ে ৬ মিটার আবার কখনো ১৫ মিটারের ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিদ্যুত্ বিতরণ প্রতিষ্ঠান লাইন নির্মাণের জন্য যে পরিমাণ রাস্তা কাটে, কাজ শেষ হতে হতে আশপাশ ভেঙে তা অনেক বড় হয়ে যায়। পরে  প্রায় পুরো রাস্তাই মেরামত করতে হয়। তাই ওই ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। সরকার সব কাজে ভ্যাট যোগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী ১৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করা হয়েছে।

ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান বলেন, প্রকল্পের খসড়ায় এক ধরনের ব্যয় ধরা হয়েছে। সেই ব্যয়ের পরিমাণ হঠাত্ করে তিন থেকে চারগুণ বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। ডিএসসিসিকে ক্ষতিপূরণ ফির হার কমানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।