তিস্তায় পানি কমছে তীব্র হয়েছে ভাঙ্গন

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৫, ০০:৩৮

তিস্তায় পানি কমছে, বেড়ে গেছে ভাঙ্গনের তীব্রতা। পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি কমতে থাকায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

 
নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তায় ভাঙ্গন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এরই মধ্যে ঝুনাগাছ চাপানী, ছোটখাতা, পূর্বখড়িবাড়ী, দক্ষিণ খড়িবাড়ী, শৌলমারী, কৈমারী এলাকার প্রায় ৪০ বিঘা আবাদি জমি ও অন্তত ১০টি পরিবারের ঘববাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। অন্যদিকে বানভাসিদের দিন কাটছে  অর্ধাহারে, অনাহারে। বিশুদ্ধ পানির অভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে।
 
পানি নামতে শুরু করায় কিছু কিছু পরিবার ঘরে ফিরতে শুরু করলেও অনেকেই তিস্তা গাইড বাঁধসহ এলাকার স্কুল-কলেজ ও উঁচু নিরাপদ স্থানেই রয়েছেন। পানিবন্দী পরিবারগুলো গবাদিপশু নিয়েই বেশি অসুবিধায় পড়েছেন। তিস্তা গাইড বাঁধে মানুষ আর গবাদিপশুতে একাকার অবস্থা। প্রকৃতি যেন এক কাতারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে সবাইকে।
 
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, তিস্তার পানি বিপদসীমার প্রায় ২৫/৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে তিস্তা পাড়ের গ্রামগুলো থেকে বানের পানি সরতে আরো কয়েকদিন সময় লাগবে। খালিশা চাঁপানী, পশ্চিম বাইশপুকুর, পূর্ব বাইশপুকুর, ছোটখাতা, খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের কিসামত ছাতনাই চরের পরিবারগুলো এখনও হাঁটু পানিতে আটকা পড়ে আছে। একই অবস্থা পূর্ব ছাতনাই, টেপাখড়িবাড়ি, খগাখড়িবাড়ি-গয়াবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী ও জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি-শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের ১৫-২০টি গ্রামের। শৌলমারী গ্রামের স্কুল শিক্ষক মোশাররফ হোসেন জানান, পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। একই অবস্থা কৈমারী ইউনিয়নেও।
 
ঝিনাইগাতীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি
 
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) সংবাদদাতা জানান, শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। দুর্ভোগ বেড়ে গেছে পানিবন্দী মানুষের। গত দু’দিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৩০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। প্লাবিত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব দেখা দিয়েছে। বাড়ি-ঘরে পানি ওঠায় রান্না করতে পারছে না মানুষ। গৃহপালিত গবাদিপশু নিয়ে কৃষকরা পড়েছে মহাবিপাকে। পানিবন্দী গ্রামগুলো হচ্ছে- মাদারপুর, বিলাশপুর, ধানশাইল, জিগাতলা, হাতিবান্দা, মালিঝিকান্দা, বনগাঁও, চতল, রামনগর, দিঘীরপাড়, ছুরিহাড়া, বেলতৈল, কোনাগাঁও, ঘাগড়া, শালধা, কালিনগর, সারিকালিনগর, লঙ্গেশ্বর, দরিকালিনগর, বাগেরভিটা, কান্দুলী, দুপুরীয়া, জরাকুড়া, পাইকুড়া, লয়খা, হাসলিগাঁও, হাসলিবাতিয়া, রাঙ্গামাটি, বন্দভাটপাড়া, কুচনিপাড়া প্রভৃতি।
 
নালিতাবাড়ীতে বন্যার আশঙ্কা
 
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) সংবাদদাতা জানান, ভারি বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খরস্রোতা চেল্লাখালি আর দুরন্ত ভোগাই নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যে কোন মুহূর্তে শহরের পৌরবাসস্ট্যান্ড, শহরতলীর শিমূলতলাসহ ৫/৬ স্থানে ভোগাই নদীর ও চেল্লাখালি নদীর পাড় ভেঙ্গে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
 
আগাম বন্যায় ফসলের ক্ষতি
 
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি কমতে থাকায় জেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এদিকে আগাম বন্যার কারণে জেলার সারিয়াকান্দিতে প্রায় ৩ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমির পাট, আউশ ধান ও শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে উপজেলার গোদাখালিতে ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধটির মেরামত এখনও শুরু হয়নি । ফলে মানুষজন আতঙ্কিত রয়েছে। এখনও পানিবন্দী রয়েছে হাজার হাজার মানুষ।
 
সারিয়াকান্দিতে ফসলের ক্ষতি
 

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি কমতে থাকায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বন্যার পানিতে উপজেলার কাজলা, কর্নিবাড়ী, বোহাইল, চালুয়াবাড়ী, সারিয়াকান্দি সদর হাটশেরপুর ও কামালপুর ইউনিয়ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।