‘সাদা ব্যান্ডেজ বেঁধে তো আর বোলিং করতে দেবে না। কিছু একটা ব্যবস্থা করবই। ব্যাটিংয়েও প্রয়োজন হলে আরেকটু নিচে ব্যাট করব। ম্যাচের আগে আরো দুইটি দিন পাচ্ছি। আশা করি, প্রথম ওয়ানডেতে মাঠে নামতে পারব।’
সাইটস্ক্রিনে ঠং ঠং করে শব্দ হচ্ছে বলের আঘাতে, গ্যালারিতে প্লাস্টিকের একটা দুটো চেয়ার আঘাতের যন্ত্রণায় কাতরে উঠছে। অনুশীলন দেখতে দাঁড়ানো দু’চারজন দর্শক মাথা বাঁচাতে ছুটছেন ছাউনির নিচে। কারণ, সেন্টার উইকেটে তামিম ইকবাল তখন ব্যাটিং করছেন; বিশাল বিশাল ছক্কা মারছেন! তামিমের দিক থেকে হঠাত্ই চোখটা সরে গেলো। সরিয়ে নিতে বাধ্য হলেন সবাই। এদিকে আবার একেবারে সেজে-গুজে, ব্যাটটাকে তরবারির মতো করে ধরে সেন্টার উইকেটের দিকে এগিয়ে চলেছেন ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। দর্শক গ্যালারি থেকে আওয়াজ উঠলো—‘ধরে দেবেন মাশরাফি ভাই’।
মাশরাফি হাত উঁচু করে বোঝালেন, ‘ধরে দিতে’ প্রস্তুত তিনি।
মাশরাফি সবসময়ই প্রস্তুত থাকেন। ধরে দিতে জীবনে কখনোই তার ক্লান্তি ছিলো না। তবে এই ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে কি না, এ নিয়ে একটু সংশয় তৈরি হয়েছিলো। ক’দিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় দু’হাতে ও ডান পায়ের হাঁটুতে আঘাত পেয়েছেন। বাকি সব ক্ষত সেরে উঠলেও ডান হাতের তালুতে এখনও দগ দগ করছে ক্ষতটা। ফলে একটা গুঞ্জন বেশ তৈরি হয়েছে যে, মাশরাফি প্রথম ম্যাচটা খেলতে পারছেন না। তবে মাশরাফি গতকাল ব্যাটিং করে, ছয় ওভার বোলিং করে বুঝিয়ে দিলেন, তিনি তৈরি। মুখেও বললেন, ‘ইনশাল্লাহ। এখন তেমন কোনো সমস্যা নেই। আর হাতে এখনও বেশ খানিকটা সময় আছে। ফলে আমি আত্মবিশ্বাসী যে, খেলতে পারবো। না পারার কারণ দেখছি না।’
বোলিংটা তিনি আগের দিনও করেছেন। দু’দিনই পুরো রানআপে ছয় ওভার করে বল করেছেন। তবে বলটা করছেন হাতে ব্যান্ডেজ বেঁধে। এই হাতে ব্যান্ডেজ থাকাটা অবশ্য অন্যরকম একটা সমস্যায় ফেলতে পারে বাংলাদেশের এই সেরা পেসারকে। ক্ষত যদি পুরোপুরি না শুকায়, হাতে ব্যান্ডেজ বেঁধে বোলিং করাতে ঝামেলা আছে। ওয়ানডে ম্যাচ হয় সাদা বলে। ডান হাতে সাদা ব্যান্ডেজ বেঁধে তাই সাদা বলে বোলিং করার অনুমতি পাবেন না মাশরাফি।
এটাও একটু ভাবাচ্ছে মাশরাফিকে। তবে তার আশা, সবকিছু জয় করে শেষ পর্যন্ত মাঠে নামতে পারবেন। আগের দিন একটি বার্তা সংস্থাকে বলছিলেন, ‘সাদা ব্যান্ডেজ বেঁধে তো আর বোলিং করতে দেবে না। কিছু একটা ব্যবস্থা করবই। ব্যাটিংয়েও প্রয়োজন হলে আরেকটু নিচে ব্যাট করব। ম্যাচের আগে আরও দুটি দিন পাচ্ছি। আশাকরি, প্রথম ওয়ানডেতে মাঠে নামতে পারব।’ তবে বোলিং নয়, মাশরাফির দুশ্চিন্তা ছিলো আসলে ব্যাটিং নিয়ে।
আগের দিনও ব্যাট ধরতে না পারায় সে চিন্তাটা প্রকাশ্যেই বলেছিলেন তিনি, ‘হাতে ব্যান্ডেজ করে বোলিং করেছি, খুব একটা সমস্যা হয়নি। বোলিং করা নিয়ে তাই দুর্ভাবনার খুব বেশি কিছু নেই। তবে এখনও ব্যাট ধরতে পারছি না। ওটা নিয়েই যা একটু ভয়। এমনিতে আর সমস্যা নেই।’
গতকাল অবশ্য ব্যাটিং অনুশীলন করে বুঝিয়ে দিলেন, এ সমস্যাও কাটিয়ে ফেলেছেন।
দলের ম্যানেজমেন্ট অবশ্য প্রস্তুত আছে। যদি কোনো কারণে মাশরাফিকে প্রথম ম্যাচে মাঠে না নামানোই হয়, সেক্ষেত্রে অধিনায়কত্বটা পাকিস্তান সিরিজের প্রথম ম্যাচের মতোই সাকিব আল হাসান সামলে নেবেন। আর তেমন ক্ষেত্রে অভিষেক হয়ে যাবে তরুণ পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের।
মোস্তাফিজুরের অভিষেকটা খুব একটা বাস্তবানুগ না হলেও খুব সম্ভবত টেস্ট অভিষেকের পর এই সিরিজেই ওয়ানডে অভিষেকও হয়ে যাচ্ছে লিটন দাসের। ইনজুরিতে পড়ে সিরিজ থেকেই ছিটকে যাওয়া মাহমুদউল্লাহর বদলে খেলবেন তিনি। তবে ওয়ানডেতে উইকেটের পেছনে তাকে থাকতে হবে না। গতকালও অনুশীলনে টানা দীর্ঘ সময় কিপিং অনুশীলন করে নিজেকে প্রস্তুত বলে ঘোষণা করে দিলেন টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।
মোদ্দা কথা, ছোটখাটো সমস্যাগুলো সবই পেছনে ফেলে প্রস্তুত হয়ে উঠেছেন মাশরাফি-মুশফিকরা। এবার শুধু সেই ধরে দেয়ার পালা!
