ঢাবির তিন ছাত্রকে মারধর, ২ কনস্টেবল সাসপেন্ড

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৯, ২২:২১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে মারধর ও সেই দৃশ্য ফোনে ভিডিও করার অভিযোগে দুই কনস্টেবল— সাইফুল্লাহ ও মামুনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত শনিবার রাত ১০টার দিকে ঢাবি ছাত্র জুয়েল রানা, কামরুল হাসান ও খাজা ইরফানুল হককে দোয়েল চত্বরে বন্দুকের বাট দিয়ে মারধর করেন কনস্টেবল সাইফুল্লাহ এবং সেই দৃশ্য ফোনে ভিডিও ধারণ করেন মামুন। তারা শহীদুল্লাহ হলের আবাসিক ছাত্র। মারধরের খবর হলে ছড়িয়ে পড়লে শতাধিক শিক্ষার্থী ছুটে আসেন দোয়েল চত্বরে। তারা দুই কনস্টেবলের শাস্তি দাবি করেন। দাবির মুখে এই দুই কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা মিরপুরে পুলিশের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টে (পিওএম) কর্মরত। তারা শাহবাগ থানার অধীনে দোয়েল চত্বরে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান জানান, দুই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। সাইফুল্লাহ ও মামুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পিওএমে চিঠি দেওয়া হয়।  গতকাল তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মারধরের শিকার জুয়েল রানা জানান, তিনি নীলক্ষেত থেকে বই কিনে রাত ১০টার দিকে দোয়েল চত্বরে পৌঁছান। সেখানে ভাসমান একটি ফুচকার দোকানি রাস্তায় আবর্জনা ফেলছিলেন। এর প্রতিবাদ করেন জুয়েল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কনস্টেবল সাইফুল্লাহ তাকে বন্দুকের বাট দিয়ে মারতে থাকেন। এ সময় জুয়েলের বন্ধু ইরফানুল বাধা দিতে আসলে তারা তাকেও মারধর করেন। কনস্টেবল সাইফুল্লাহ ফুচকার দোকান মালিকের কাছ থেকে সেসময় চাঁদা নিচ্ছেলেন বলে জানান জুয়েল। তাদের মারধর করলেও পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ সদস্যরা নিবৃত্ত করেনি, বরং কনস্টেবল মামুন সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করেন।

খবর পেয়ে শহীদুল্লাহ হলের শতাধিক শিক্ষার্থী দোয়েল চত্বরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন।