যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনা রাজ্যের চার্লস্টনের একটি ঐতিহাসিক আফ্রিকান-আমেরিকান তথা কৃষ্ণাঙ্গদের গির্জায় গুলি করে নয়জনকে হত্যা করেছে এক শ্বেতাঙ্গ বন্দুকধারী। এ ঘটনায় আহত অপর একজনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার শহরটির পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন নারী এবং তিনজন পুরুষ। পুরুষদের মধ্যে রাজ্যের একজন সিনেটরও রয়েছেন। হামলাকারীকে গতকাল বৃহস্পতিবার নর্থ ক্যারোলিনার সেলবি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হামলার ১৩ ঘণ্টা পরই তাকে গ্রেফতার করা হলো। খবর বিবিসি ও ডেইলি মেইল অনলাইনের।
পুলিশ জানিয়েছে, দেড়শ বছরের পুরনো এমানুয়েল অ্যামে নামের গির্জায় হামলা চালানো শ্বেতাঙ্গ ওই বন্দুকধারীর নাম ডিলান স্টর্ম রুফ যার বয়স ২১ বছর। স্থানীয় সময় বুধবার রাত ৯টায় গির্জায় সবাই যখন বাইবেল পড়ছিলেন তখন এই হামলা চালানো হয়। ধারণা করা হচ্ছে, রুফ হামলা চালানোর এক ঘণ্টা আগে গির্জার ভেতরে প্রবেশ করে। তাদের সঙ্গে বাইবেল পড়ায় যোগ দেয়। হঠাত্ করে গুলি শুরু করে সে। পুলিশ প্রধান গেগরি মুলেন জানিয়েছেন, এটা একটা ঘৃণিত অপরাধ। বিচার বিভাগ, ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এবং মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেলের অৃফিস এই ঘৃণিত অপরাধের তদন্ত শুরু করেছে। বেঁচে যাওয়া সিলভিয়া জনসন জানিয়েছেন, ‘তাকে হামলা বন্ধ করতে বলা হলে স্টর্ম রুফ বলে, ‘আমাকে এটা করতে হয়েছে। তোমরা আমাদের নারীদের ধর্ষণ কর এবং আমাদের দেশের বিরুদ্ধে কথা বল।’ নিষেধ করা ওই ব্যক্তিকে বাঁচিয়ে দেয় রুফ এবং বলে, ওই মহিলাকে বাঁচিয়ে রাখার কারণ, গির্জায় কী ঘটেছিল তা সে বিশ্বকে বলবে। লেক্সিংটনে বাসিন্দা স্টর্ম রুফের পরিবার জানিয়েছে, ওই বন্দুকটি গত ২১ এপ্রিল জন্মদিনে তার বাবা তাকে উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। হামলায় ৫ বছর বয়সী এক মেয়ে বেঁচে যায়। কারণ তার মা তাকে মৃত মানুষের অভিনয় করতে বলেছিল। হামলার পর রুফ গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বন্দুকধারী পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত থাকার কথা জানিয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। পুলিশের বরাত দিয়ে চার্লসটনের সংবাদপত্র দ্য পোস্ট ও কুরিয়ার জানিয়েছে, সন্দেহভাজন বন্দুকধারী জিন্সের প্যান্ট ও মাথায় টুপিওয়ালা ফ্লানেলের শার্ট পরিহিত ২১ বছর বয়সী এক শ্বেতাঙ্গ তরুণ। ১৮৯১ সালে নির্মিত ইমানুয়েল গির্জাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
