রাজধানীর গুলিস্তান, মতিঝিল, পল্টন এলাকায় ফুটপাত দিয়ে চলতে গিয়ে বেগ পেতে হয় পথচারীদের। ফুটপাতসহ রাস্তার এক-তৃতীয়াংশ ছিল দোকান আর হকারের দখলে। তবে বদলে গেছে সেসব চিত্র। ওই সব এলাকায় ফুটপাতে এখন একটিও দোকান বা হকার নেই। ফলে স্বচ্ছন্দে চলাচল করতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন পথচারীরা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যৌথ উদ্যোগে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের সঙ্গে বৈঠক করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সেখানে ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত হয়।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ডিএসসিসি নগরভবনে আয়োজিত মাদক, সন্ত্রাস ও অবৈধ দখলমুক্ত করতে করণীয় নির্ধারণ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেছেন, পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ শুরু হয়েছে। জনগণের পথচলার সুন্দর পরিবেশ না হওয়া পর্যন্ত হকার উচ্ছেদ কার্যক্রম চলতে থাকবে।
তিনি বলেন, শুধু নগরভবনের আশেপাশের এলাকায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হকার ছিল। যে কারণে মানুষ হাঁটতে-চলতে পারছিল না। যার ফলে পথচারীরা সড়ক দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হয়। এ কারণে নানা রকম দুর্ঘটনা দেখা দিত। আমরা জনগণের চলাফেরা নির্বিঘ্ন করতে হকার উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করছি।
এদিকে গতকাল পুনর্বাসনের দাবিতে রাজধানীতে সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন হকাররা। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন। এ সময় হকাররা দাবি করেন, পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদ করা যাবে না। একই সঙ্গে হকারদের গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে। এ ছাড়া প্রতিবাদ সমাবেশে জীবিকা সুরক্ষা আইন পাস করার দাবি জানান তারা।
হকার নেতারা বলেন- অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিত্সা ও বাসস্থান— এ পাঁচটি মৌলিক চাহিদা পূরণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। যদি এগুলো পূরণ করতে না পারেন তা হলে হকার উচ্ছেদ করা যাবে না।
