ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে ফোন করায় দু'দেশের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা হ্রাস পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছে পাকিস্তানের একটি দৈনিক।
বৃহস্পতিবার ‘ডেইলি টাইমস’ পত্রিকায় ‘মোদীর উদ্যোগ’ শিরোনামের এক সম্পাদকীয়তে এ মন্তব্য করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, “মোদীর ফোন ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে বাড়তে থাকা উত্তাপ কমাতে সহায়ক হয়েছে।”
সম্প্রতি দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি বিষোদগারে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, “চলমান উত্তেজনা নিরসনে এটি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর নেয়া একটি শুভ উদ্যোগ। উভয়পক্ষের গত কয়েকদিনের বিষোদগারে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। মঙ্গলবারের পাঁচ মিনিটের ফোনকলে উভয় নেতা বিতর্কিত মন্তব্য বন্ধ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।”
দৈনিকটি বলেছে, মিয়ানমারে উত্তরপূর্ব ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী শিবিরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হামলার প্রেক্ষিতে, “একজন জুনিয়র ভারতীয় মন্ত্রী বলেছেন, মিয়ানমারের ঘটনা পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরসহ অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অভিযানের সম্ভাব্যতার ক্ষেত্রে একটি নজির হতে পারে।”
এর আগে ঢাকা সফরকালে নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াইয়ের স্বপ্নে তিনিও সামিল ছিলেন। তার এই মন্তব্যে পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন।
টাইমস বলেছে, “পাকিস্তানি সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওই প্রতিক্রিয়া ছিল অনভিপ্রেত ও অজ্ঞানতা প্রসূত।”
সম্পাদকীয়টিতে বলা হয়েছে, “আরো ঠাণ্ডা মাথায় গ্রহণযোগ্য ভঙ্গিতেও প্রতিক্রিয়া জানানো যেত।”
“সামান্য কথায় এমন রাগত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করার কোনো দরকার ছিল না। ভারতীয় নেতাদের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আরেকটু কাণ্ডজ্ঞান প্রয়োগ করা উচিত। এই বাকযুদ্ধের বিপরীতে, প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়েছেন এবং কখনো কঠোর কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। এর পরিবর্তে তিনি শান্তিকে সুযোগ করে দেয়ার জন্য ভারতীয় পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শান্তি প্রক্রিয়াকে নষ্ট না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।”
এর প্রেক্ষিতে মোদীর ফোনকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ অভিহিত করে দুদেশের এগিয়ে যাওয়ার পথে শান্তিই একমাত্র বিকল্প বলে মন্তব্য করে সংবাদপত্রটি।
